Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোররাতে ধুন্ধুমার কালীঘাটে! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে শালবনি ও কলকাতা পুলিশ, তালা ভেঙে ঢুকলেন তদন্তকারীরা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির অলিন্দে এক ‘হাই-ভোল্টেজ’ নাটক! সাতসকালে নয়, একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে ভোর রাত ৩টে নাগাদ নজিরবিহীন চাঞ্চল্য ছড়াল খোদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার হরিশ মুখার্জি রোডে। সাধারণ মানুষ যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আচমকা হানা দিল শালবনি থানার পুলিশ। কোনো রাখঢাক না রেখেই, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর সটান বাড়ির মূল কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেন তদন্তকারীরা! ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই একের পর এক ধাক্কায় কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। তার ওপর প্রশ্ন উঠছে, কী এমন নথি বা প্রমাণের খোঁজে এই নিশুতি রাতের তৎপরতা? রাজনৈতিক মহলে শোরগোল বাড়িয়ে প্রাথমিক সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত আপ্ত সহায়ক বা PA সুমিত রায়ের খোঁজেই নাকি এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযান। শালবনিতে জমি কেলেঙ্কারি ও আর্থিক তছরুপের একটি মামলার জালে এই টান বলে সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ প্রশাসন সুনির্দিষ্ট ধারা নিয়ে এখনও মুখ না খুললেও, ভোররাতের এই অ্যাকশন যে নিছক রুটিন তল্লাশি নয়, তা বলাই বাহুল্য।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। খবর পাওয়া মাত্রই গভীর রাতে তড়িঘড়ি ভাইপোর বাসভবনে এসে পৌঁছন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে গোটা এলাকা কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। শালবনি থানার পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থল মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশকর্মী দিয়ে। তবে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই গোটা তল্লাশি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা!

ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর কি তবে আইন তার নিজের গতিতে আরও কঠোরভাবে চলছে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো বড়সড় দুর্নীতির অকাট্য যোগসূত্র? কোন মামলার তদন্তে পুলিশের এই ‘ঝটিকা সফর’ এবং প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশিতে তদন্তকারীদের হাতে কী তথ্য এলো, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version