Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ডুবে যাওয়া নৌকায় পিসি-ভাইপোর লড়াই! অভিষেকের খাস লোক তৃণাঙ্কুরকে ছেঁটে কী বার্তা মমতার?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। দলে একের পর এক বিধায়কের অসন্তোষের জেরে এক ঝটকায় রাজ্যের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনে ঘটে গেল এক বড়সড় রদবদল—তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলো প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে। কিন্তু এই রদবদলের আড়ালে কি আসলে চলছে এক গভীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই? যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণাঙ্কুরকে সরিয়ে দেওয়া কি স্রেফ রুটিন বদল, নাকি বিপর্যয়ের পর ভাইপোর ডানা ছেঁটে নিজের ‘পুরোনো প্রহরী’দের হাতে দলের রাশ ফেরাতে চাইলেন মমতা? রাজনৈতিক মহলের অন্দরে এখন এই নিয়েই তীব্র জল্পনা।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যখন একের পর এক বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দলনেত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলের ভেতরের এই ব্যাপক ভাঙন ও ক্ষোভ সামাল দিতেই এই চরম সিদ্ধান্ত। আর সেই রদবদলের প্রথম কোপটি এসে পড়ল ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ পদে।রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ। কিন্তু দলকে নতুন করে গোছানোর এই প্রক্রিয়ায় যেভাবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ নেতাদের সামনে আনা হচ্ছে এবং তৃণাঙ্কুরকে সরিয়ে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তাতে অনেকেই পিসি-ভাইপোর ক্ষমতার লড়াইয়ের ছায়া দেখছেন। বিরোধীদের কটাক্ষ—দল সংকটে পড়তেই কি তবে ভাইপোর ‘নব্য তৃণমূল’ ফর্মুলা ঝেড়ে ফেলে পুরোনো বিশ্বস্তদের ওপরই ভরসা রাখছেন মমতা?

প্রশ্ন, সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়েও কি দলের অন্দরের ফাটল ঢাকা যাচ্ছে? এই ব্যাপক রদবদল কি আদতে ডুবে যাওয়া নৌকাকে বাঁচানোর এক মরিয়া চেষ্টা নয়? প্রশ্ন দুই: তৃণাঙ্কুরকে সরিয়ে যে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে আনা হলো, তিনি কি তবে পিসির শিবিরের নিয়ন্ত্রণে ছাত্র সংগঠনকে রাখার নতুন চাল? ছাত্র সংগঠনের রাশ কি তবে ভাইপোর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হলো? প্রশ্ন তিন, বিদায়ী সভাপতি তৃণাঙ্কুরকে ব্যর্থতার কারণে সরানো হলে, আবার কেন তাঁকে দলের রাজ্য কার্যকরী কমিটিতে জায়গা দেওয়া হলো? একেই কি বলে চোখঠারানি রাজনীতি?

সংকটের মুখে পড়ে সব কমিটি ভেঙে দিলেও দলের ভেতরের অবিশ্বাস আর ফাটল কতটা ঢাকা যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণাঙ্কুরকে সরিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে আনা যে স্রেফ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলের এক বড় ইঙ্গিত—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সন্দেহ নেই।

 

 

 

 

 

 

ডিসক্লেমার: এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত সমস্ত বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলের জল্পনা এবং বিরোধী শিবিরের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। পোর্টাল কর্তৃপক্ষ এর সত্যতা এককভাবে দাবি করে না।

Exit mobile version