প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের নির্বাচনী ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নজিরবিহীন এক অভ্যন্তরীণ মহাপ্রলয়ের মুখে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস! দলের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করে বসলেন। কোনো রকম রাখঢাক না রেখে আজ ভরদুপুরে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়ে রাজীব জানিয়ে দিলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে না সরালে আমি আর এই দলে এক মুহূর্তও থাকব না!” মুখের কথার পাশাপাশি নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের কভার ও ডিসপ্লে পিকচার থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের ছবি এক ঝটকায় মুছে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করেছেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের পুরনো কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে সরে এসে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা আসনে লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাসের নীরবতা ভেঙে আজ তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে এলেন, তা ঘাসফুল শিবিরের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মমতা ও অভিষেকের যুগল ছবি সরিয়ে দিয়ে তিনি সেখানে শুধুই নিজের ছবি পোস্ট করেছেন, যার পাশে লেখা রয়েছে ‘মানুষের সাথে, মানুষের পাশে’। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবি মুছে দেওয়ার এই পদক্ষেপ আসলে জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার এক স্পষ্ট এবং চূড়ান্ত ভার্চুয়াল যুদ্ধঘোষণা।
আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে আজ যারা রয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই আড়ালে বলছেন যে অভিষেক থাকলে তারা কেউ দল করবেন না। অভিষেক যদি দল থেকে সরে যান, তবেই সবাই আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে এসে দাঁড়াবেন।” দলনেত্রীর প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাজীব বলেন, “আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না যে এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন? এটা শুধু আমার একার কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই।” তাঁর সাফ কথা, রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয় এবং সেই স্বাধীনতাই যদি না থাকে, তবে এমন দলে থাকার কোনো মানে হয় না।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়েছিলেন, তখন বিধানসভা ভবন থেকে বেরনোর সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি তিনি বুকে আগলে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় দলনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার আর শুধু অভিষেক নয়, পরোক্ষে দলনেত্রীর প্রশ্রয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। রাজীবের এই চরম বিদ্রোহের পর তৃণমূলের অন্দরে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজীবের এই ‘টাইমড বম্ব’ তৃণমূলের অন্দরে থাকা অন্যান্য ক্ষুব্ধ নেতাদেরও প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস জোগাতে পারে। এখন দেখার, রাজীবের এই আলটিমেটামের জবাবে কালীঘাট কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি রাজীব নিজেই তাঁর পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক গন্তব্য স্পষ্ট করে দেন।
