Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

যে দল গড়লেন, সেখানেই আজ ‘উপদেষ্টা’ হওয়ার করুণ টোপ! ঋতব্রতর বিদ্রোহে মমতার রাজনৈতিক পরিণতি কি তবে চরম খাদের কিনারায়?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে নাটক তো অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু নিজের দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে, নিজের দলেরই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে, আবার সেই দলেরই সুপ্রিমোর পায়ে আগাম সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ঠুকে দেওয়া—এমন ‘বিচিত্র’ রাজনৈতিক সার্কাস সম্ভবত একমাত্র এই বাংলায় এবং এই তৃণমূলের কালচারেই সম্ভব! আজ, ৩ জুন বিধানসভার স্পিকারের ঘরে ৫৮ জন বিধায়ককে বগলদাবা করে গিয়ে নিজেকে অফিশিয়াল ‘বিরোধী দলনেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পিসি-ভাইপো’ মডেলে যে ধস নেমেছে, তা ঋতব্রতর এই বিদ্রোহে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে তোপ দেগে ঋতব্রত আজ সাফ বলেছেন, ওঁর দলে কেবল ‘সঙ’ আছে, কোনো ‘গঠন’ নেই। কিন্তু তার পরেই ঘটল সেই মোক্ষম ট্র্যাজেডি! চাবুক হাতে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের ছাল চামড়া গুটিয়ে দিলেও, পরম মুহূর্তে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এক অদ্ভুত নাটক জুড়লেন নতুন এই বিরোধী দলনেতা।

কিন্তু এই গোটা নাটকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং নির্মম সত্যিটা কী জানেন? তা হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের এই চূড়ান্ত শোচনীয় ও করুণ পরিস্থিতি! ভাবা যায়, যে নেত্রী একসময় একচ্ছত্র ক্ষমতায় গোটা রাজ্য শাসন করেছেন, যাঁর একটা অঙ্গুলিহেলনে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত—আজ ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর নিজের তৈরি করা দলের বিধায়করাই তাঁকে কোন জায়গায় নামিয়ে এনেছেন!আজ নতুন বিধানসভায় তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়করা দল ভেঙে আলাদা একটা ব্লক তৈরি করে ফেললেন। আর দিদির রাজনৈতিক সম্মান বাঁচাতে তাঁরা কী ছুঁড়ে দিলেন? স্রেফ একটা ‘উপদেষ্টা’ বা ‘চিফ অ্যাডভাইজার’ পদের টোপ! রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক অপমান আর করুণ দশা একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আর কী হতে পারে? আজ যে বিধায়করা দিদির দয়ায় টিকিট পেয়েছিলেন, তাঁরাই আজ দিদিকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ‘উপদেষ্টা’ থাকার ভিক্ষা দিচ্ছেন! ক্ষমতার অলিন্দ থেকে একেবারে খাদের কিনারায়—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই করুণ পরিণতি দেখে আজ রাজনৈতিক মহলের সচেতন নাগরিকরা হাসছেন।

ঋতব্রত আজ বুক বাজিয়ে দাবি করলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের নেত্রী।” এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাহলে এই বিদ্রোহের মানেটা কী? এই কি তবে ‘ক্যাপ্টেন’-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নাকি স্রেফ ভাইস-ক্যাপ্টেনকে সরানোর ঘরোয়া কোন্দল? আসলে রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, এই তথাকথিত বিদ্রোহের পেছনে রয়েছে এক চরম দ্বিচারিতা এবং ক্ষমতার লোভ। দল ক্ষমতা হারিয়েছে, দিদি এখন প্রাক্তন, নবান্নের লালবাতি এখন অতীত—তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই নতুন বিধানসভা ব্লকের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হওয়ার জন্য যে আকুল আরজি ঋতব্রত জানিয়েছেন, তা দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় যে ভেতর থেকে এরা কতটা দেউলিয়া। দল থেকে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার পরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছায়ায় আশ্রয় খোঁজার এই আপ্রাণ চেষ্টা আসলে আর কিছুই নয়—নিছকই রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং ভবিষ্যৎ আইনি কোপ থেকে বাঁচার সেফ প্যাসেজ খোঁজা।

সাধারণ মানুষ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলছেন, “ভাইপো খারাপ, আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী খুব ভালো?” দিদির জমানার কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, কয়লা-বালি-চাকরি চুরির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা কি ভাইপো একা সামলেছেন? যে সিন্ডিকেট রাজ গত দেড় দশক ধরে বাংলাকে শেষ করে দিল, তার প্রধান নেত্রীকে আজও পুজো করা আসলে বাংলার মানুষের সাথে এক চরম মস্করা। একদল দল ছাড়ছে, আরেকদল নতুন ব্লক গড়ছে—কিন্তু তৃণমূলী চরিত্রের কি কোনো বদল হচ্ছে? দিদির অনুপ্রেরণা ছাড়া কি অতীতে বাংলায় একটা পাতাও নড়ত? তাহলে আজ অভিষেককে খলনায়ক বানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সাধু সাজানোর এই চিত্রনাট্য কে লিখে দিল?

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল থেকে স্পষ্ট বার্তা আসছে, এই জোড়াতালির রাজনীতি দিয়ে বাংলার মানুষের চোখ আর ঠকানো যাবে না। তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে একটা বিষয় পরিষ্কার—ভেতর থেকে দলটা একেবারে পচে গেছে এবং মানুষ এদের প্রত্যাখ্যান করে সঠিক কাজই করেছে। আজ ক্ষমতা হারিয়ে নিজের দলের কাছেই যিনি ‘উপদেষ্টা’ পদের করুণ পাত্রী হয়ে উঠেছেন, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারের দিকে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।জনগণ দেখছেন, বুঝছেন এবং হাসছেন। এই প্রাক্তন শাসকদলের পিসি-ভাইপো এবং তাঁদের বিদ্রোহী অনুগামীদের সার্কাস থিয়েটার আর বেশিদিন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। বাংলার মানুষ এবার এই সার্কাস বন্ধ করে আসল পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী ও গঠনমূলক শাসনের ওপরই ভরসা রাখছেন।

Exit mobile version