প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরের চরম বিরোধী হিসেবেই পরিচিত তাঁরা। একজন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্যজন সদ্য নির্বাচনে জয়ী বিজেপি বিধায়ক-অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। কিন্তু হঠাৎ এমন কী ঘটল, যার জন্য সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে খোদ মমতার পাশে এসে দাঁড়াতে হলো রূপাকে? বিজেপি বিধায়কের মুখে আচমকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা শুনে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সম্প্রতি একটি নতুন বাংলা ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’-র ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন রূপা গাঙ্গুলী। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে সমাজমাধ্যমে যেভাবে কুরুচিকর ট্রোলিং ও বিকৃত ছবি পোস্ট করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই সরব হন তিনি।সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে রূপা গাঙ্গুলী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখনও বলেছি, আজ সরকারে দাঁড়িয়েও বলছি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে যে ধরনের কথাবার্তা বলা হয়, ওঁর যে ধরনের ছবি (বিকৃত করে) পোস্ট করা হয়, এটা একদম উচিত নয়। এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি হতে পারে না।” উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের তারকা প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন রূপা গাঙ্গুলী। নির্বাচনের ঠিক পরপরই মমতাকে নিয়ে তাঁর গলায় কটাক্ষের সুর শোনা গেলেও, এবার তিনি রুখে দাঁড়ালেন বাংলার রাজনৈতিক সৌজন্য ও সংস্কৃতি রক্ষায়। শুধু ট্রোলিং নয়, ইদানীং রাজনীতির ময়দানে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোড়ার’ যে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাকেও ‘অসুস্থ সমাজ’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন রূপা।
বিজেপি শিবিরের এই হেভিওয়েট নেত্রীর মুখে এমন মন্তব্য আসার পর অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক আদর্শ যার যার নিজের জায়গায়, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিকর মানসিকতার বিরুদ্ধে রূপা গাঙ্গুলীর এই সোজা সাপটা প্রতিবাদ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
