Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“তৃণমূলের জন্মলগ্নে মঞ্চ বাঁধতেন মদন, খাবারের প্যাকেটও জোটাতেন!” শমীকের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর রাজ্য রাজনীতিতে এবার সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য! কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের আকস্মিক শিবির বদল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী মঞ্চে যোগ দেওয়া নিয়ে যখন গোটা বাংলা উত্তাল, ঠিক তখনই তৃণমূলের অন্দরের এক চরম অতীত ইতিহাস টেনে আনলেন শমীক। তাঁর এক একটি বিস্ফোরক মন্তব্য যেন রাজনৈতিক মহলে সুনামি ডেকে এনেছে। সরাসরি দাবি করলেন, আজ যারা বড় বড় নেতা, তৃণমূলের জন্মলগ্নে তাঁরা কেউ ছিলেন না, দলটা তৈরিই হয়েছিল মদন মিত্রের কাঁধে ভর করে!

বিজেপি নেতার মুখে হঠাৎ তৃণমূল বিধায়কের এই স্তুতি শুনে প্রথমে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। শমীক ভট্টাচার্য আজ প্রকাশ্যেই দাবি করেন, “মদন মিত্র রঙিন চরিত্র। মদন মিত্র মানেই রঙ। মদন মিত্র মানেই প্রাণ। তৃণমূলের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মদন মিত্র ছিলেন।” এখানেই শেষ নয়, বর্তমান শীর্ষ নেতাদের খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “কলকাতার মঞ্চ মদন মিত্র বাঁধতেন, খাবারের প্যাকেট মদন মিত্র জোগাড় করতেন।” অর্থাৎ, দলটার ভিত যারা তৈরি করেছিলেন, তাঁদের আজ কী হাল, সেটাই যেন আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন শমীক।

মদন মিত্রের বিখ্যাত সংলাপ ‘ও লাভলি’র রেশ টেনে শমীক বলেন, মদন বাবু যেখানেই যান, সেখানেই একটা চরম উন্মাদনা তৈরি হয়। কিন্তু এই প্রশংসার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক মারাত্মক রাজনৈতিক চাবুক। শমীক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুরোনো দিনের সেই লড়াকু মদন মিত্র আর আজকের মদন মিত্রের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীকের এই মন্তব্য আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো। একদিকে যেমন তিনি মদন মিত্রের বর্তমান দলবদলকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার খেলা’ বলে কটাক্ষ করলেন, অন্যদিকে তেমনই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বর্তমান গুরুত্বহীনতাকে তুলে ধরে মমতার শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন। সন্দীপন সাহার বাড়িতে গোপন বৈঠক থেকে শুরু করে ঋতব্রতর শিবিরে মদন মিত্রের পা রাখা—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর এই জুলাইতে বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াই যে এক চরম নাটকীয় মোড় নিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না! এখন দেখার, শমীকের এই বিস্ফোরক দাবির জবাবে তৃণমূল বা স্বয়ং মদন মিত্র পাল্টা কী তোপ দাগেন।

Exit mobile version