Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজনৈতিক মহলে মহা বিস্ফোরণ! ইস্তফা দিয়েই হিমন্তের দরবারে সুস্মিতা দেব, তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির বুকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি। এই দুই হেভিওয়েট নেতার সাক্ষাতের ছবি সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যার জেরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।

কিছুদিন আগেই দলের বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার পর তৃণমূল নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সুস্মিতা দেবের এই আকস্মিক পদক্ষেপ দলের অন্দরের সমন্বয়হীনতা এবং অসন্তোষকেই আবার প্রকাশ্যে এনে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং রণকৌশলগত ব্যর্থতার কারণেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতা দল ছাড়ছেন বলে সূত্রের খবর। একদিকে যখন লোকসভার প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার আসন চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন, ঠিক তখনই রাজ্যসভাতেও দলের এই ভাঙন প্রমাণ করছে যে সংসদীয় দলেও ফাটল চওড়া হচ্ছে।

ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের এই বৈঠক কেবল সৌজন্যমূলক নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে সুস্মিতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি তাঁকে বড় কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব বা পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দিতে পারে। সুস্মিতা দেবের এই দলত্যাগের ফলে ত্রিপুরা ও অসমে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খেল। দিল্লির এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই ভাঙন আসলে তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

Exit mobile version