Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাম আমলের ‘হার্মাদ’ রাজনীতির কারণেই সিপিএম আজ শূন্য, বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার ট্র্যাডিশন এরাজ্যে নতুন নয়, তবে বাম জমানাতেই এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বা আমদানি ঘটেছিল বলে সোমবার বিধানসভায় জোর সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাজ্য বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের বিতর্কে অংশ নিয়ে তৎকালীন সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তোলেন তিনি। লক্ষ্মণ শেঠ থেকে শুরু করে সুশান্ত ঘোষ— বাম জমানার একাধিক দাপুটে নেতার নাম করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, সেদিনের সেই ‘অরাজকতার’ রাজনীতির ফলভোগ আজ করতে হচ্ছে বামেদের, যার জেরে আজ তারা নির্বাচনী ময়দানে কার্যত শূন্য।

এদিন সদনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই কিছু সৎ ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব থাকেন, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে রাজনীতির যে অভূতপূর্ব অধঃপতন আমরা দেখছি, তা আগে কখনও দেখা যায়নি।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, বাংলায় ২০০০ সালের পর থেকে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ আটকাতে তৎকালীন শাসকদল এক বিশেষ ধরণের অপরাধী চক্র বা ‘সংগঠিত হার্মাদ বাহিনী’ গড়ে তুলেছিল। আর এই বাহিনীকে সরাসরি পরিচালনা করতেন লক্ষ্মণ শেঠ, সুশান্ত ঘোষ, মোজাম্মেল বাবু এবং অমিয়বাবুদের মতো তৎকালীন সিপিএমের শীর্ষ নেতারা।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষমতার দম্ভে এবং পেশীশক্তির জোরে সেদিন সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছিল বলেই বাংলার মানুষ একসময় বামফ্রন্টকে শূন্য হাতে বিদায় জানিয়েছিল। তবে তাঁর আক্রমণের তির শুধু বামেদের দিকেই ছিল না। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলেও এই দুর্বৃত্তায়ন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে তিনি কটাক্ষ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে ভুল সিপিএম করেছিল, সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করার মাসুল দিতে হয়েছে তৃণমূলকেও, যার ফলে আজ তারা রাজ্যের বিরোধী আসনে বসতে বাধ্য হয়েছে।

বিধানসভায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনা এই নতুন কঠোর আইনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে যেকোনো ধরণের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, গুন্ডাগিরি এবং প্ররোচনামূলক অপরাধ রুখতে প্রশাসন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে। দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে, যাতে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়।

Exit mobile version