Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

স্টুডিও পাড়া নিয়ে নজিরবিহীন বড় ঘোষণা নবান্নের! টলিউড থেকে কি এবার সম্পূর্ণ মুছে যাচ্ছে রাজনীতি?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টলিউড তথা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব এবার পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। মহানায়ক উত্তমকুমারের ঐতিহাসিক জন্মশতবর্ষের মহাসমারোহ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে টলিপাড়ার কলাকুশলীদের উদ্দেশ্যে এক বৈপ্লবিক ও নজিরবিহীন বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নন্দনে আয়োজিত এই বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা হবে।

টালিগঞ্জের প্রথম সারির তারকাদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিপাড়ার কলাকুশলীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের স্পষ্ট ভাষায় কথা দিচ্ছি, চলচ্চিত্র জগৎ বা টলিউড সংস্কৃতির কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। এখানে আর কোনো রাজনীতি থাকবে না। আমরা গোটা ব্যবস্থাটাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই।” বিগত বছরগুলিতে টলিউডের স্টুডিও পাড়া বা টেকনিশিয়ানদের সংগঠনের ওপর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অলিখিত আধিপত্য ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সিনেমা মহলে বারবার ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বহু যোগ্য শিল্পী ও কলাকুশলী কেবল ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে নবান্ন এবার যোগ্য প্রতিভাদের কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় প্রতিভার কোনো অভাব নেই। আমরা চাই শিল্পীরা কোনো রাজনৈতিক রঙ বা ভয়ের তোয়াক্কা না করে মুক্ত মনে নিজেদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটান।”

এক সময় বাংলা চলচ্চিত্র গোটা ভারতবর্ষকে পথ দেখাত উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, মুম্বই বা ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলো এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে। টলিউডের সেই হারানো গৌরব ও স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করতে রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার কথা জানিয়ে তিনি কলাকুশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা শুধু ভালো সিনেমা তৈরি করুন। রাজ্য সরকার দু’হাত বাড়িয়ে আপনাদের পাশে থাকবে। ছবি তৈরির জন্য কী সাহায্য লাগবে, কত বাজেট বরাদ্দ করতে হবে, কী ছাড়পত্র লাগবে—সব জানান। প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন এনেও আমরা আপনাদের সব ধরনের প্রশাসনিক বাধা দূর করে দেব।”

উত্তমকুমারের স্মৃতি রক্ষার্থে নিউ টাউনে ২৫ কোটি টাকা বাজেটের একটি মেগা ফিল্ম সেন্টার গড়ে তোলার পাশাপাশি টলিউডে সুস্থ ও দলদাসত্বহীন কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এই বড় ডিক্লেয়ারেশন স্টুডিও পাড়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছে সিনেমা বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version