Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে!” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতার ‘বাঘ’-কে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’-এর মহাসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। ঠিক তার পরদিনই, বুধবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে সেই মন্তব্যের পাল্টা নজিরবিহীন ও চরম আক্রমণাত্মক জবাব দিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে জেলযাত্রার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।

সম্প্রতি অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে আমতলায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙা শুরু হতেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেওয়া হবে”। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও সেই একই সুর শোনা গিয়েছিল। বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের ওপর জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ টেনেই তুমুল টিপ্পনী কাটেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি, ওটা তো ভাইপো দিবস হয়েছে। কেউ বলছে, ভাইপো নাকি প্যারাসুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসাব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে!” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিধানসভার অন্দরে শোরগোল পড়ে যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাঘ’ সম্বোধনকে নস্যাৎ করে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “লম্ফ-ঝম্ফ পিসি বলে চারশো মামলা হয়েছে, তাও নাকি ছেলেটা ভয় পায়নি! ওটা বাঘ না বিড়াল, ফলতাতে একবার দেখিয়েছেন।” তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, “৪ মে-র (ভোটের ফলপ্রকাশ) পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার! ওখানকার বিধায়ক পান্নালাল হালদার নিয়ে যান না ওনাদের চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বিগত সরকারের আমলে হওয়া সমস্ত চুরি-ডাকাতির পাই-পাই হিসাব নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যত চুরি, ডাকাতি করেছেন, হিসাব তো নয়—সব বের করব। গর্ত খুঁড়ে চুরির টাকা বের করব।”

বিধানসভায় অন-রেকর্ড দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মারাত্মক আক্রমণাত্মক ভাষণের সময় তৃণমূল বিধায়করা আসন ছেড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অনড় থেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, নতুন সরকার রাজ্যে দুর্নীতির তদন্তে কোনো রকম রেয়াত করার মুডে নেই।

Exit mobile version