Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটব্যাঙ্কে ধস ঢাকতেই কি আদালতের দ্বারস্থ? মমতার পর এবার রাজারহাটে মামলা তাপসের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার রাজারহাট-নিউটাউনে পরাজিত তৃণমূল নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়ল সাবেক শাসক দল তৃণমূল। একের পর এক আসনে গণতান্ত্রিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তৃণমূলের এই আইনি লড়াইকে রাজনৈতিকভাবে হারের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবির। তাদের দাবি, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল নেতারা এখন জনগণের রায়কে খাটো করার চেষ্টা করছেন।রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু বিজেপির কাছে এই সামান্য ব্যবধানের পরাজয়ও কেন মেনে নিতে পারছে না তৃণমূল?

রাজারহাট-নিউটাউন আসনে বিজেপি প্রার্থীর কাছে মাত্র ৩১৬ ভোটের সামান্য ব্যবধানে হেরেছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়।হারের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত রাউন্ডের ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং নতুন বিজেপি সরকারের প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনকে আড়াল করতেই এখন গণনায় কারচুপির চেনা অজুহাত খাড়া করা হচ্ছে। তাপস চট্টোপাধ্যায়ের মামলার আবেদনে রাজারহাটের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ (মুসলিম পাড়া)-এর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই মুসলিম অধ্যুষিত বুথ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৫টি ভোট পেয়েছে, যা তাদের মতে অবাস্তব।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এতদিন ধরে যাদের কেবল নিজেদের ‘নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক’ ভেবে এসেছে, সেই সংখ্যালঘু ভোটাররাই এবার তৃণমূলের অপশাসন ও দুর্নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মানুষ যে তৃণমূল থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিয়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের উন্নয়নের ওপর ভরসা রেখেছেন, ৫টি ভোট পাওয়া তারই প্রমাণ। একে কারচুপি বলা জনগণের রায়কে অপমান করার শামিল।ভবানীপুরের আসনে পরাজয় মেনে নিতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, ঠিক একই লাইনে হেঁটে তাপস চট্টোপাধ্যায়ও এখন রাজারহাট-নিউটাউনের সমস্ত ভোট পুনর্গণনা (Recounting) এবং নির্বাচনের নথি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন।

গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণ। বাংলার মানুষ যখন ব্যালটে এবং ইভিএমে নতুন বিজেপি সরকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে, তখন পরাজয় স্বীকার করার মতো রাজনৈতিক সৌজন্য তৃণমূল দেখাতে পারছে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালত এই মামলার আইনি দিক বিচার করবে, তবে রাজনৈতিক ময়দানে যে তৃণমূল সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে, তা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের এই মামলা থেকেই স্পষ্ট।

Exit mobile version