Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘পরজীবী’ রাজনীতির অবসান? “প্রিয়দার ধুতি আর মমতার আঁচল ধরা সুদীপ একটা বোঝা”, বিস্ফোরক বিজেপি মন্ত্রী তাপস রায়!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অবশেষে কি যবনিকা পড়তে চলেছে চাটুকারিতার সেই অধ্যায়ের, যার একমাত্র মূলধন ছিল অন্যের ওপর ভরসা করে টিকে থাকা? রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল যখন আজ খাদের কিনারায়, ঠিক তখনই সামনে এল এক চরম সত্য। লোকসভায় তৃণমূলের বিদায়ী দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এবার হাড়হিম করা আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বর্তমান বিজেপি মন্ত্রী তাপস রায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে কোনো স্বাধীন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি এক চিরস্থায়ী ‘বোঝা’ বা লায়াবিলিটি!

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূল আর এরাজ্যের ক্ষমতায় নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় তৃণমূলের অন্দরে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক মহাধস। লোকসভার মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ ১৯ জন সাংসদ প্রকাশ্য ‘বিদ্রোহী’ হয়ে আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। বিদ্রোহের এই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক সেরে, বিদ্রোহী ব্লকে সই করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দরবারে হাজিরা দিয়েছেন। ক্ষমতার মধু ফুরিয়ে যাওয়ার এই আবহে সুদীপবাবুর এই পদক্ষেপ ঘিরেই এবার আসল সত্যটি প্রকাশ্যে এনেছেন তাপস রায়।

তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙনের মাঝেই দিল্লির দরবারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইন দেওয়া নিয়ে বিজেপি মন্ত্রী তাপস রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। তাপস বাবু চাঁচাছোলা ভাষায় সুদীপের রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,“ওরা নিজেদের বাঁচাতে ব্যস্ত। এরা কোনোদিনই কারও প্রতি লয়াল (অনুগত) ছিল না, এমনকি এরা কোনো রাজনৈতিক এলিমেন্টই নয়! সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব কোনো সংগঠন বা ভিত্তি ছিল না। ও কোনোদিন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ধুতির খুঁট ধরে ঘুরে বেড়াতো, আবার নিজের স্বার্থ ফুরোতেই মমতার আঁচল ধরে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে এতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে।” বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নিজের কোনো জনভিত্তি সুদীপবাবু তৈরি করতে পারেননি। ক্ষমতার অলিন্দে ভেসে থাকতে যখন যার চাটুকারিতা করা প্রয়োজন, তিনি সেটাই করেছেন বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নিঃস্ব কালীঘাটের বর্তমান অবস্থার জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের তোষণ করাকেই দায়ী করেছেন তাপস রায়। সরাসরি তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অকর্মণ্য ‘বোঝা’ চিরকাল সযত্নে বয়ে বেরিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ধরণের চাটুকার ও স্বার্থান্বেষী নেতাদের মাথায় তোলার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে খোদ দলনেত্রীকে। তাপস রায়ের ভাষায়, “বোঝা বইতে তো ভালোবাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশিরভাগই তো বোঝা বয়েছেন। এই বোঝা টানার খামখেয়ালিপনার জেরেই দলটা আজ কার্যত উঠে যাওয়ার মুখে এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ এই চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” নিজের স্বার্থের জন্য এরা আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিপদে ফেলতে পিছপা হননি বলে তোপ দাগছে বিজেপি শিবির।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি ছুটে গিয়ে নিজেকে যত বড় ‘বিদ্রোহী’ প্রমাণ করার চেষ্টাই সুদীপবাবু করুন না কেন, বিজেপির দরজা তাঁর জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তাপস রায়। অতীতে সুদীপকে ‘সাদা হাতি’ বলে কটাক্ষ করা তাপস বাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা সারাজীবন শুধু অন্যের খুঁট ধরে বৈতরণী পার হয়েছেন, জনগণের জন্য বা কোনো দলের জন্য কোনোদিন কিছু করেননি, তাদের কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বই নেই।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন এক নতুন ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সূর্যোদয় দেখছে। ফলে, অতীতের পাপ ধুয়ে ফেলতে যারা এখন পদ্মশিবিরের ছায়া পেতে মরিয়া, তাদের ইতিহাস কিন্তু এরাজ্যের মানুষ ভোলেনি। প্রিয়দার ধুতি আর মমতার আঁচল ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার কোন নতুন ‘খুঁট’ খোঁজার চেষ্টা করছেন, সেটাই এখন দেখার।

Exit mobile version