প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের মে মাসের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সম্পূর্ণ হয়েছে। ঠিক এই আবহেই খোদ দলীয় কার্যালয় নিয়ে এক নজিরবিহীন ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ইএম বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের বর্তমান অস্থায়ী রাজ্য সদর কার্যালয়টি আগামী দুই মাসের মধ্যে খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খোদ বাড়ির মালিক মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহা! বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার কলকাতার এই হাইপ্রোফাইল ভবনটিও হাতছাড়া হতে চলায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। হঠাৎ কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়ির মালিক? এর পিছনে কি কেবলই কোনো ব্যক্তিগত কারণ, নাকি ক্ষমতা বদলের পর রাজ্যে শুরু হয়েছে নতুন কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক সমীকরণ? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার ওই বহুতল ভবনটির মালিক হলেন কলকাতার নামী ডেকরেটর ব্যবসায়ী মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহা। রাজনৈতিক মহলে তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এবং গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের সমস্ত বড় বড় সভার ডেকোরেশনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, গত ৪ ঠা মে ওই ভবনে আচমকাই ঢিল বা পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পড়ে যান মন্টু সাহা। কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং ভবনের সুরক্ষার স্বার্থেই তিনি মৌখিকভাবে দলকে আগামী ২ মাসের মধ্যে ঘর খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর। বিরোধী শিবিরের একাংশ এবং রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের দাবি, কেবল সুরক্ষাজনিত কারণই নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে ডেকোরেশনের বকেয়া টাকা সংক্রান্ত কোনো অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন থাকলেও থাকতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে বাড়ির মালিক বা দল— কোনো পক্ষই আর্থিক লেনদেন নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেনি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। তৃণমূল জমানার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত লোকেরাও এখন আইনি বা অন্যান্য জটিলতা এড়াতে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই বিতর্ক ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। দলের একটি সূত্রের দাবি, এই নোটিশ নিয়ে অযথা রাজনীতি করার কিছু নেই। তোপসিয়ায় তৃণমূলের মূল স্থায়ী সদর কার্যালয়টির পুনর্নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের মুখে। সেটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেলেই এমনিতেও এই অস্থায়ী কার্যালয়টি ছেড়ে দেওয়া হতো। তাই বাড়ি মালিকের নোটিশের সাথে দলের বর্তমান রাজনৈতিক বা আর্থিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কারণ যাই হোক না কেন, নবান্নের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ঠিক পরপরই খোদ রাজ্য সদর দপ্তর খালি করার এই নোটিশ এবং দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর এই পদক্ষেপ যে তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই। এখন দেখার, নির্ধারিত দুই মাসের আগেই তপসিয়ার নতুন ভবনে তৃণমূল পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায়, নাকি এই অস্থায়ী ভবন রক্ষা করতে পর্দার আড়ালে অন্য কোনো সমঝোতা হয়।
