প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন (অভিমুখীকরণ) কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল তিলোত্তমায়। নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই হাইপ্রোফাইল সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালীনই মাঝপথে আকস্মিকভাবে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যের বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুষ্ঠান কক্ষ থেকে সোজা বেরিয়ে যান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের আমন্ত্রণে এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে আসাটা বিধায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল। আমি সেই দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া আমার কর্তব্য হলেও, আমি কার বক্তব্য শুনব আর কার বক্তব্য শুনব না—তা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” লোকসভার স্পিকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু ওঁর ভূমিকা মোটেই নিরপেক্ষ নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের একটি গোষ্ঠীকে ভাঙানোর জন্য এবং বিভাজন তৈরি করতে উনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। যিনি নিজে নিরপেক্ষ নন, তাঁর কাছ থেকে আমি কোনো বক্তব্য শুনতে বা গণতন্ত্রের পাঠ নিতে বাধ্য নই।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দলটির অভ্যন্তরে দুটি প্রধান শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে—একটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ‘কালীঘাটপন্থী’ শিবির এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবির। কুণাল ঘোষ নিজেকে ‘মমতাপন্থী’ বা কালীঘাট শিবিরের কট্টর সমর্থক হিসেবেই তুলে ধরেছেন। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার যেভাবে দল থেকে বহিষ্কৃত একজনকে অনৈতিকভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। পাশাপাশি কয়েকদিন আগে বিধানসভার অধিবেশনে তাঁকে বলতে না দিয়ে তাঁর কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। একদিকে লোকসভার স্পিকার ও অন্যদিকে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের এমন ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সভার মাঝখান থেকে ওয়াকআউট করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেন।
লোকসভা সচিবালয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ বহু বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে কুণাল ঘোষের এই আচমকা বয়কট ও বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল শিবিরের অন্দরের ফাটলকে আরও একবার প্রকাশ্য রাস্তায় এনে দাঁড় করাল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
