প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে চলা প্রতীক ও দলীয় আধিপত্যের লড়াই এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে ‘আসল’ তৃণমূল কে, তা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এই বিরোধের মীমাংসায় নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র তলব করেছে।
পূর্ববর্তী নথিপত্র স্ক্রুটিনির পর নির্বাচন কমিশন আরও কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ও অতিরিক্ত নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। ২১শে জুলাইয়ের দলীয় শক্তি প্রদর্শনের ঠিক দু’দিন আগে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে পৌঁছান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন করে চাওয়া এই সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য কমিশন আগামী ২৫ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে।
কমিশনের চাওয়া আগের সমস্ত তথ্য যথাসময়ে পাঠানো হয়েছিল এবং এই অতিরিক্ত নথিও ডেডলাইনের আগেই জমা দেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের রাশ হাতে নিতে সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের (ECI) ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন তাঁরা।
এই নথিপত্র আদান-প্রদান এবং সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে বারবার সময় বাড়িয়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কালীঘাট তথা মমতা শিবির। ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্র সহ একাধিক শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেছেন যে, সময় নষ্ট করে আসল তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দলটির দাবি, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিই সম্পূর্ণ বৈধ। ২৫ জুলাইয়ের এই চূড়ান্ত ডেডলাইনের পর ভারতের নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীক ও দল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
