প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর ক্ষমতা হারিয়ে এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল তারা। এবার সরাসরি বড়সড় আঘাত এল তাদের গচ্ছিত আর্থিক সাম্রাজ্যের ওপর। এ রাজ্যে এখন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) সরকার পরিচালনা করছে। আর ক্ষমতা হারানোর পর চরম আর্থিক দেউলিয়া হওয়ার দোরগোড়ায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITMC)। দলের অন্দরের ক্ষমতার লড়াই এখন এমন নজিরবিহীন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার দলীয় তহবিল হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে খোদ কোষাধ্যক্ষই ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন!রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের সিন্দুকে কার হাত থাকবে, তা নিয়ে পিসি-ভাইপোর আদি শিবিরের সঙ্গে দলত্যাগী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর যে তীব্র লড়াই চলছে, খোদ কোষাধ্যক্ষের এই মরিয়া পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট প্রমাণ।
গত ১২ জুন HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখার ম্যানেজারকে এক চাঞ্চল্যকর চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। চিঠিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত রকম ডেবিট লেনদেন যেন অবিলম্বে স্থগিত রাখা হয়। ফলে দলীয় ফান্ড থেকে এক টাকাও তোলার ক্ষমতা হারিয়েছে কালীঘাট শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তীব্র হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল কোষাধ্যক্ষকে। তাই নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং ক্ষমতা হারানোর পর বেআইনি লেনদেন রুখতেই তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিন ভাগে বিভক্ত দল! রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের দাবি, ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল এখন দৃশ্যত তিন টুকরো। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে বিধানসভায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী, আর একদল সাংসদ ইতিমধ্যেই দিল্লির বুকে অন্য পথ ধরেছেন। অরূপ বিশ্বাস তাঁর চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দলের রাশ, কর্তৃত্ব ও সম্পত্তি কার হাতে থাকবে তা নিয়ে দলের ভেতরেই এখন চরম বিরোধ ও একাধিক ‘Rival Groups’ তৈরি হয়েছে।
গেরুয়া শিবিরের মতে, এতকাল সাধারণ মানুষকে লুটে যে বিপুল সাম্রাজ্য তারা বানিয়েছিল, আজ ক্ষমতা চলে যেতেই সেই অর্থের অধিকার নিয়ে তাদের অন্দরের কামড়াকামড়ি এখন প্রকাশ্য রাজপথে চলে এসেছে। রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির দাবি, “বাংলার মানুষকে লুঠ করে যে বিপুল সাম্রাজ্য তৃণমূল গড়েছিল, আজ ক্ষমতা হারানো মাত্রই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। মানুষের প্রত্যাখ্যানের পর এবার নিজেদের পাপের ভাগের লড়াইয়ে ধ্বংস হচ্ছে তারা।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি ও আর্থিক অবরোধের পর তৃণমূলের রাজনৈতিক কার্যকলাপ তো বটেই, আইনি লড়াই বা দল চালানোর মতো ন্যূনতম খরচ মেটানোই এখন তাদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।ক্ষমতার অহংকারে মত্ত থাকা একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ দলটির পতন যে এতটা মর্মান্তিক হবে, তা বোধহয় খোদ কালীঘাটও কল্পনা করতে পারেনি।
(প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য, বিরোধী শিবিরের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।)
