Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

BREAKING NEWS: তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল! সুখেন্দুশেখরের পর এবার ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব, চরম অস্তিত্ব সংকটে মমতার দল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর এবার কি জাতীয় স্তরেও সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস? গত সোমবারের পর আজ ফের মহাধস নামল দলে। দলের অন্দরে তীব্র বিদ্রোহ ও চরম ডামাডোলের জেরে আজ বড়সড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফার পরই, আজ বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের অন্যতম হেভিওয়েট জাতীয় মুখ সুস্মিতা দেব। শুধু সাংসদ পদই নয়, তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে গিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বাংলার মসনদ হারানোর পর মমতার একনায়কতন্ত্রের কফিনে এর চেয়ে বড় পেরেক আর কী হতে পারে?

প্রথমে সুখেন্দুশেখর রায়, আর আজ সুস্মিতা দেব— একের পর এক উইকেট পড়ছে তৃণমূলের। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নটা কিন্তু খুব সোজাসুজি এবং তীক্ষ্ণ— কতদিন আর অহংকার দিয়ে দল চালানো যায়? বাংলায় তো মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলেছে, এবার কি দিল্লির দরবারেও আপনাদের তাসের ঘর ভেঙে পড়ার সময় চলে এল? ইস্তফা দেওয়ার পরই আজ দিল্লিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন সুস্মিতা দেব, যা তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগদানের জল্পনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়ও দল ছাড়ার সময় স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলের “লাগামহীন দুর্নীতি” এবং “অরাজক শাসনের” বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। শুনেছিলাম সুস্মিতা দেবকে নাকি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উত্তর-পূর্বে জোড়াফুল ফোটানোর। কিন্তু যে দলের পায়ের তলা থেকে বাংলার মাটিই সরে গেছে, তারা নাকি যাবে ত্রিপুরা আর অসমে ক্ষমতা দখল করতে!

রাজনৈতিক মহল বলছে, তৃণমূলের এই পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি, দুর্নীতি আর অহংকারের জেরেই দলের অন্দরে দমবন্ধ হয়ে আসছিল সুস্মিতার মতো হেভিওয়েট নেতাদের। আজ সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি নিলেন তিনি। তাহলে কি এটা স্পষ্ট নয় যে, তৃণমূল নামক ডুবন্ত জাহাজ থেকে এবার সবাই পালাচ্ছেন? বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার সংসদের অন্দরেও নিজেদের দল ধরে রাখতে পারছে না শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ঘরের অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, তা আজ সুস্মিতা দেবের ইস্তফায় জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।

বিজেপি শিবিরের দাবি— “তৃণমূল নামক ডুবন্ত জাহাজ থেকে এবার সবাই পালাচ্ছে। বাংলায় জমানো দুর্নীতির সাম্রাজ্য এবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে।” সূত্রের খবর, তৃণমূলের আরও অন্তত ডজনখানেক সাংসদ এবং বহু বিধায়ক এখন লাইনে দাঁড়িয়ে। এবার দেখার, এই মহাসংকট থেকে বাঁচতে শীর্ষ নেতৃত্ব কোন নতুন চিত্রনাট্য তৈরি করে।

Exit mobile version