প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির দাবার বোর্ডে বোধহয় একেই বলে সবচেয়ে বড় উলটপুরাণ! যে ছবি দেখার জন্য হয়তো বাংলার রাজনৈতিক মহলও প্রস্তুত ছিল না, আজ দুপুরে ঠিক সেই নজিরবিহীন দৃশ্যেরই সাক্ষী হলো নবান্নের অলিন্দ। এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিতে একে একে পৌঁছে গেলেন ঘাসফুল শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট বিধায়ক।কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা— এই ৩টি জেলার পর্যালোচনা সভাকে কেন্দ্র করে আজ নবান্নের করিডোরে যে ভিড় দেখা গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছে।
আজ অবাক চোখে রাজ্য দেখল, নবান্নের চৌকাঠ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকছেন কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং অশোক দেবের মতো তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শীর্ষস্তরের জনপ্রতিনিধিরা। জল্পনার পারদ আরও উস্কে দিয়ে এই বৈঠকে সোজা হাজির হলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। উল্লেখ্য, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই যাদের দল থেকে বহিষ্কারের কথা সামনে এসেছিল, তাদের এই উপস্থিতি যেন এক নতুন রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একদিকে যখন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাস্তায় নেমে নতুন করে লড়াইয়ের জমি গোছানোর কথা ভাবছেন, একের পর এক সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিচ্ছেন—ঠিক তখনই তাঁরই নিজের ঘরের সেনাপতিরা দল বেঁধে চলেছেন নবান্নে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে। একে আপনি কী বলবেন? কেবলই কি নিজের নিজের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এক মার্জিত প্রশাসনিক সৌজন্য? নাকি নির্বাচনের পর ক্ষমতার নতুন চৌকাঠের দিকে পা বাড়ানোর এক অলিখিত তাগিদ? শ্লেষটা এখানেই—রাজনীতিতে কোনো চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র হয় না, শুধু সময়ের খেরোখাতায় সম্পর্কের সংজ্ঞাটা প্রতিদিন বদলে যায়। ঘরের দেওয়ালে ভাঙনের চওড়া ফাটল নাকি ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ, এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাসে।
কিন্তু আইনের চোখে? না, আইনের খেরোখাতায় তো কোনো অপরাধ নেই! ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সেই পবিত্র অলিখিত নিয়ম—দল যার যার, সরকার সবার। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাঁর এলাকার মানুষের রুটি-রুজির স্বার্থে, উন্নয়নের থমকে যাওয়া চাকা ঘোরানোর তাগিদে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের টেবিলে বসতেই পারেন। সংবিধান তো কোনো বিধায়ককে তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে যেতে শিকল পরায়নি!তাই খাতায়-কলমে এই বৈঠক স্রেফ ৩টি জেলার খতিয়ান মেলানোর এক নিয়মতান্ত্রিক সরকারি আয়োজন মাত্র। আইনত একে এখনই রাজনৈতিক বিদ্রোহ বা দলবদল বলে সিলমোহর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা তো আর আইনের ধারা মুখস্থ করে চলে না, তারা বোঝে হাওয়ার গতিপ্রকৃতি। আইন যেখানে সৌজন্যের বর্ম পরাচ্ছে, রাজনীতির অন্দরমহল সেখানে দেখতে পাচ্ছে এক গভীর সমীকরণ। ধোঁয়া যখন উঠছে, তখন কোথাও না কোথাও তো আগুনের ফুলকি রয়েইছে। শেষ পর্যন্ত এই ‘নবান্ন-যাত্রা’ বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে কোন মোড়ে এনে দাঁড় করায়, তার উত্তর কেবল সময়ই দিতে পারবে।
