প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতা। ক্যামেরার সামনে যাঁর বাগ্মিতা, চেনা অবয়ব আর ভাষার ধার প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করত, আজ সেই জয়প্রকাশ মজুমদারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সল্টলেকে। কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে নয়—এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে অত্যন্ত গুরুতর এবং স্পর্শকাতর কিছু অভিযোগ। সল্টলেকের এক পরিবারের ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে রাখা, বাড়ির মালিককে মারধর এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল। স্থান—সল্টলেকের অভিজাত AE ব্লক। ক্যামেরার সামনে যিনি রোজ বিকেলে নীতিবাক্যের বন্যা বইয়ে দিতেন, টেলিভিশনের পর্দায় বসে যিনি আইনের শাসন নিয়ে লম্বা চওড়া ভাষণ দিতেন, আজ তাঁর বিরুদ্ধেই আইনের দ্বারস্থ হলেন এক সাধারণ পরিবার! ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সল্টলেকের AE ৩৩৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি নাকি একদা অফিস হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ বাবু। কিন্তু মালিকপক্ষের অভিযোগ, সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পরও ক্ষমতার অলিন্দে থাকার সুবাদে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তিনি নাকি সেই ফ্ল্যাটটি বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, বাড়ির মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেটির ভেতরে বেআইনিভাবে স্থায়ী নির্মাণকাজ চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। কিন্তু দিন বদলেছে। বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণও আজ পরিবর্তিত। ক্ষমতার সেই পুরনো ‘পুলিশি চাদর’ সরে যেতেই আজ যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সেই পরিবার নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে চায়, ফ্ল্যাটে তালা ঝোলাতে যায়, তখনই নাকি পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়।
অভিযোগ—মেজাজ হারিয়ে ফ্ল্যাট মালিকের গায়ে হাত তোলেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। আর বাড়ির মহিলারা যখন এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেন? তখন তাঁদের ওপরও অশালীন হেনস্থা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। জনতা কিন্তু আজ আর মুখ বুজে থাকেনি। সল্টলেকের AE ব্লকের বাসিন্দারা আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। মালিকপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করে এবং পরবর্তীতে শ্লীলতাহানি, মারধর ও জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের মতো সুনির্দিষ্ট ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আমরা প্রশ্ন তুলব। আমরা আজ জানতে চাইব—মুখপাত্র মহাশয়, ক্যামেরার সামনের সেই শালীনতা আর আইনের পাঠ আজ সল্টলেকের এই ফ্ল্যাটের দরজায় এসে এমন প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল কেন? ক্ষমতা যাওয়ার পরেও এই ধরণের বেনজির সংঘাতের দায় কি এড়াতে পারে কোনো রাজনৈতিক দল? আইন যে নিজের পথেই চলে, সল্টলেকের আজকের এই পুলিশি পদক্ষেপ কি তারই প্রমাণ? জবাবের অপেক্ষায় থাকবে আমজনতা।
