প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন তোলপাড়! বিধানসভার স্পিকারের একটি হাই-প্রোফাইল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল আদালত ও বিধানসভা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই মামলার শুনানিতেই আজ স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে কার্যত বেনজির এবং বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যখন খোদ ভারতের নির্বাচন কমিশনের দরবারে ‘আসল তৃণমূল’ কারা—তা নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়া বাকি, তখন স্পিকার কীভাবে এত দ্রুত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে দিলেন? এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এই ধরণের বিতর্কে অন্য মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তখন অধ্যক্ষের এত তাড়াহুড়ো করার কী ছিল?”
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের বৈধতা নির্ধারণের মূল এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কমিশনকে টপকে স্পিকারের এই পদক্ষেপকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখছে না আদালত। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাইকোর্ট চাইলে স্পিকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর আইনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ জারি করতে পারে। অর্থাৎ, আদালতের এক কলমের খোঁচায় ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতার পদ এই মুহূর্তেই বিশ বাঁও জলে চলে যেতে পারে!
যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের পুরনো কিছু মামলার উদাহরণ টেনে এটিকে স্পিকারের একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়। বিচারপতির পাল্টা পর্যবেক্ষণ—কোনো সম্ভাব্য বেআইনি পদক্ষেপকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বলে মান্যতা দেওয়া যায় না।
আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। আজ বুধবার বিকেল ৩টেয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি। আর সেই শুনানিতেই কি তবে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে যাবে? নজর রাখছে গোটা রাজ্য।
