প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক বিস্ফোরক দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষা বা তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সমস্ত সম্ভাবনাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেছেন, ২০১১ সালের পরিবর্তনের হাওয়ার চেয়েও ২০২৬-এর (বর্তমান প্রেক্ষিত অনুযায়ী) পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে অনেক বেশি তীব্র। গতকাল, ৩০ এপ্রিল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, তাঁর কোনো বুথ ফেরত সমীক্ষা দেখার প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “আমি নিশ্চিত যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। মানুষের চোখেমুখে যে পরিবর্তনের জেদ দেখেছি, তা ২০১১ সালকেও হার মানাবে।”
শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে এক বিশেষ পরিসংখ্যান। তিনি দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট যেমন ব্যাপকভাবে জোটবদ্ধ হয়েছে, তেমনি বড়সড় ধস নেমেছে তৃণমূলের নিশ্চিত ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটদাতাদের মধ্যেও। শুভেন্দুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম ভোট এবার পদ্ম শিবিরের পক্ষে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দাবি সত্য হলে তা বাংলার ভোটের ফলাফলে এক অভাবনীয় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
শুভেন্দুর যুক্তিতে উঠে এলো ৩ টি প্রধান কারণ: ২০১১ সালে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে যে জনরোষ ছিল, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সেই একই রকম ক্ষোভ নিচুতলার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুভেন্দু মনে করেন। হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ ‘এককাট্টা’ হয়ে ভোট দেওয়ায় বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মুসলিম ভোটের ৮ শতাংশ বিজেপির দিকে আসার দাবিটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। সাধারণত সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের বড় শক্তি, সেখানে এই ফাটল শাসক শিবিরের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শুভেন্দুর এই বক্তব্য যেহেতু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ এবং দাবি হিসেবে পেশ করা হয়েছে, তাই একে তথ্যগত বিতর্কের চেয়ে ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন প্রশ্ন হলো, শুভেন্দু অধিকারীর এই আত্মবিশ্বাস কি ইভিএমে প্রতিফলিত হবে? নাকি বুথ ফেরত সমীক্ষাই শেষ কথা বলবে? এর উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ফলপ্রকাশের দিন। তবে শুভেন্দুর এই ‘৮ শতাংশ’ তত্ত্ব এখন বাংলার চায়ের দোকানে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।