প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে শাসক দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই বাংলার রাজনৈতিক আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। একদিকে হেভিওয়েটদের বাদ পড়া, আর অন্যদিকে দলের অন্দরে কান্নার রোল। কিন্তু এই পরিস্থিতির নেপথ্যে কি কেবলই ‘নবীন বরণ’, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সমীকরণ? বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি এখন সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুকান্ত মজুমদার সরাসরি একটি ব্যবসায়িক মডেলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “নতুন কী আর জানার আছে, এটা সবাই জানে তো, আইপ্যাককে দিয়ে ভাইপো টাকা তোলে, আর সেখান থেকে টিকিট বিক্রি হয়। টিকিট তো নিলাম হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। যে সিটগুলিতে পরিবর্তন করতে পারে না, কিছু দাপুটে নেতা আছে, সেই সিটগুলি বাদ দিয়ে বাদবাকি সব সিট নিলাম হয় ওখানে।”
সুকান্ত মজুমদারের এই বয়ান রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের মত একটি রাজনৈতিক দলে কি তবে পেশাদার সংস্থার রিপোর্টই শেষ কথা? সুকান্ত মজুমদারের এই ‘নিলাম’ তত্ত্বকে কি প্রকারান্তরে মান্যতা দিচ্ছে তৃণমূলের বঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভ? নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসুর ভেঙে পড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল। দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ নেত্রীর পরিবর্তে নতুন মুখ আসায় তাঁর অনুগামীরা প্রশ্ন তুলেছেন— ত্যাগের কি তবে কোনো দাম নেই? সুকান্ত মজুমদারের ‘নিলাম’ তত্ত্ব কি তবে এখানেও কার্যকর? পূর্ব বর্ধমানের দাপুটে নেতা তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাদ পড়া নিয়ে জেলার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন তবে দক্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হলো? পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট নেতা সৌমেন মহাপাত্রের নাম তালিকায় না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মেদিনীপুরের পুরনো ভোট সমীকরণ কি তবে আইপ্যাকের ‘নতুন ছকে’র বলি হলো? চুঁচুড়ার অসিত মজুমদারের মান ভাঙাতে সমর্থ হলেও, তৃণমূলের জন্য দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বাকিদের নীরব প্রতিবাদ। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদারের এই ‘নিলাম’ ও ‘টিকিট বিক্রি’র তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তাঁদের দাবি, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং এলাকার মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে। এখন ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে এই ‘অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ’ তৃণমূলের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা সময়ই বলবে। তবে সুকান্ত মজুমদারের এই শাণিত আক্রমণ যে বাংলার সাধারণ ভোটারদের মনে এক গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।