প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের লড়াই শেষে এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি তথাকথিত ‘অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট’। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এবার নির্বাচনে ২৩০ টিরও বেশি আসন পেয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছে ঘাসফুল শিবির। এমনকি এই রিপোর্টে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে যা শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই অবাক। তবে বিরোধী শিবির ও বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার তথ্যে উঠে আসছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।

তৃণমূলের এই গোপন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী যেখানেই দাঁড়িয়েছেন, সেখানেই তাঁর হার নিশ্চিত। নন্দীগ্রামের হাই-ভোল্টেজ লড়াই হোক কিংবা ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই নাকি বিজেপির শীর্ষ নেতা মুখ থুবড়ে পড়বেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দাবি আসলে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার একটি কৌশল মাত্র। কারণ, নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে এবার বিজেপি যে জনজোয়ার তৈরি করেছে, তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জয়ের আনন্দে এবার নাকি কোনো সাধারণ বিজয় মিছিল নয়, বরং বর্ণাঢ্য উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, রবীন্দ্রসঙ্গীতের ধ্রুপদী সুরের সঙ্গে ডিজের দাপুটে বিট মিলিয়ে এক অদ্ভুত ‘ফিউশন’ বাজিয়ে উৎসব করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য বলছেন, ফল প্রকাশের আগেই এমন ‘উৎসবের ছক’ আসলে অতি-আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ।

তৃণমূল ২৩০ আসনের দাবি করলেও, একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যম ও সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা (Exit Poll) কিন্তু অন্য কথা বলছে। অনেক সমীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে টক্কর সমানে-সমানে, এমনকি অনেক জায়গায় বিজেপি নির্ণায়ক লিড নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি অটুট থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, যা তৃণমূলের ২৩০-এর দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

এবারের নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো অশান্তিহীন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ। সাধারণ মানুষ ভয়ভীতিহীনভাবে বুথমুখী হয়েছেন এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর এই ‘শান্ত ভোট’ সাধারণত পরিবর্তনের পক্ষে যায় বলেই মনে করেন অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। ব্যালট বক্সে জনতা জনার্দন ঠিক কী রায় দিয়েছেন, তা তৃণমূলের রিপোর্টের সাথে মিলবে নাকি বিজেপি-র ঐতিহাসিক উত্থান ঘটবে, তা সময়ের অপেক্ষা। আপাতত ২৩০ আসনের দাবি বনাম বিজেপির নিঃশব্দ বিপ্লব—এই দুইয়ের লড়াইয়ে ফুটছে বাংলা। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা পরিষ্কার হবে গণনার দিনেই।