প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ‘বিজেপির চক্রান্তের’ অভিযোগ তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মন্তব্য, “উনি ইতিমধ্যেই ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, আর মাত্র ১টি বাকি আছে। সেটা থেকেও তাঁকে সরতে হবে। বাংলার মানুষ মনস্থির করে ফেলেছে, উনি আর কোনও দফতরেই ফিরবেন না।”
সম্প্রতি প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ২৪শে মার্চ ২০২৬-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদাধিকার বলে রাজ্যের বিভিন্ন দফতর ও অনুমোদিত সংস্থার প্রায় ২৩ থেকে ২৫টি শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ছিল রাজ্য স্বাস্থ্য মিশন, রাজ্য বন্যপ্রাণী বোর্ড, উর্দু একাডেমি এবং ইকো-ট্যুরিজম অ্যাডভাইজারি বোর্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ সব কমিটি ও পর্ষদ। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আইনি জটিলতা এড়াতে বা প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। তবে শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্তফাকেই হাতিয়ার করে দাবি করেছেন যে, তৃণমূল নেত্রী আসলে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। হার নিশ্চিত জেনেই তিনি ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছেন বলে দাবি বিরোধী দলনেতার।
পূর্ব মেদিনীপুরের এক জনসভা থেকে হুঙ্কার ছেড়ে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন নাম কাটার চক্রান্ত হচ্ছে। আরে চক্রান্ত তো আপনি করেছেন গত ১৫ বছর ধরে! এখন যখন দেখছেন মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তখন ভয় পাচ্ছেন। আপনাকে ২৫টি পদ থেকে পিছু হঠতে হয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, আসল ইস্তফা এখনও বাকি। সেটা হলো ওই ১টি পদ—মুখ্যমন্ত্রীত্ব। ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষ আপনাকে ওই শেষ চেয়ারটি থেকেও সরাবে।” শুভেন্দুর এই গাণিতিক আক্রমণ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন যে এবারের লড়াইয়ে জেতা অসম্ভব, তাই তিনি ধীরে ধীরে ক্ষমতা থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি ষড়যন্ত্র করে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু সাফ জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যা নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করে। এতে রাজ্য বা কেন্দ্রের কোনও ভূমিকা নেই। শুভেন্দুর তোপ, “যাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক সাজিয়েছিলেন, আজ যখন নিয়মানুযায়ী তালিকা স্বচ্ছ হচ্ছে, তখন তাঁদের বুক কাঁপছে। এটা কোনও চক্রান্ত নয়, বরং স্বচ্ছ গণতন্ত্রের লক্ষ্যে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরাজয় আসন্ন জেনেই এখন থেকে হারের অজুহাত তৈরি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এটাই প্রমাণ করে যে, বিজেপি এবার এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। শুভেন্দুর এই ‘২৫ বনাম ১’-এর হুঙ্কার রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই গণ-ইস্তফাই প্রমাণ করে যে তৃণমূল সরকার এখন সব দিক থেকে চাপে রয়েছে। প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং একের পর এক জনরোষের মুখে পড়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ‘চক্রান্তের’ গল্প ফাঁদছেন বলে দাবি বিজেপির।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হওয়া এই বাগযুদ্ধ এখন সরাসরি ক্ষমতার লড়াইয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারি তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।