প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
৩৪ বছরের বাম শাসনকে সরানোর ক্ষেত্রে পথ দেখিয়েছিল নন্দীগ্রাম। আর ২০২১ এ বিজেপি বিরোধী দলের ক্ষমতায় বসার সময়ও সেই নন্দীগ্রাম পথ দেখিয়েছে। যেখানে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপি টিকিট লড়াই করা রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাতে গোনা আর কয়েকটি মাস। তারপরেই রাজ্যে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন। তাই বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এই নির্বাচনে লড়াই করে যাতে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। কিন্তু অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে যে, মেদিনীপুরে তো শুভেন্দু অধিকারী সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে এবং নিজের কৌশল দিয়ে বেশিরভাগ আসনই বিজেপিকে তুলে দেবেন। কিন্তু গোটা রাজ্যে কি তা সম্ভব হবে বিজেপির পক্ষে? আজ পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা থেকে শুধু মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্য থেকেই তৃণমূলকে তাড়াতে হবে বলে পরিবর্তনের আহ্বান জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বর্তমানে একদিকে এসআইআর, আর অন্যদিকে প্রতিনিয়ত তৃণমূল সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, বেকার যুবকদের যন্ত্রণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জেলায় জেলায় পরিবর্তন সংকল্প সভা করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যেকটি সভা থেকেই ২০২১ এ নন্দীগ্রামে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন, সেই নন্দীগ্রামের দেখানো পথেই গোটা রাজ্যকে ২০২৬ এ লড়াই করতে হবে বলেই বার্তা দিচ্ছেন তিনি। বেশিরভাগ সভা থেকেই শুভেন্দু অধিকারী হিন্দু সনাতনীদের ভোটকে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসার জন্য তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে যে সনাতনীরা সুরক্ষিত নয়, সেই দাবি করছেন। আর আজ কাঁথি সংগঠনিক জেলার পরিবর্তন সংকল্প সভা থেকে তৃণমূল ২০২৬ এর ক্ষমতা এলে রাজ্যে হিন্দু সনাতনীদের কি করুণ পরিণতি হবে, সেই কথা উল্লেখ করলেন বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি শুধু মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্য জুড়েই তৃণমূলকে সরাতে পরিবর্তন জরুরি বলেও সাধারন মানুষকে ক্ষমতা বদল করার আবেদন জানালেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।
এদিন কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে পরিবর্তন সংকল্প সভার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূলকে তাড়াতে হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে শুধু তাড়ালে হবে না। গোটা রাজ্য থেকে তাড়াতে হবে। ২০১১ সালে এসে টাটাকে তাড়িয়েছে। ১৬ তে এসে চাকরি খেয়েছে। আর ২৬ এ যদি আসে, একটা হিন্দুকেও পশ্চিমবঙ্গে রাখবে না। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ করতে চায়। জামাতিদের হাতে তুলে দিতে চায় পশ্চিমবঙ্গকে। তাই একে সরাতে হবে। গ্রামে গ্রামে জোট বাঁধতে হবে। ধর্ম রক্ষা কমিটি করতে হবে।”