প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বিজেপি খুব ভালো করেই জানে যে, এবার যদি তারা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করতে না পারে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের আর বাংলায় ক্ষমতায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই এবারের এই সুবর্ণ সুযোগকে কোনো দিক থেকেই মিস করতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার করে বাংলায় সভা করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের এবার বাংলা চাই। তাই একদিকে যেমন এসআইআর চলছে, ঠিক তেমনি শাসকদলের সন্ত্রাসের সমস্ত পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করার জন্য পাল্টা পরিকল্পনা নিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কোনো দিক থেকেই খামতি রাখতে চাইছে না তারা। আর এবার রাজ্যের মানুষের যে সমস্ত অভাব, অভিযোগ রয়েছে, তা একত্রিত করতে সংকল্পপত্র প্রকাশের আগেই আজ থেকেই রাজ্য জুড়ে বড় কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপি।
বাংলায় ভোট ঘোষণা হওয়া যে শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কোনো দিন, যে কোনো মুহূর্তে নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। তবে তার আগে বসে থাকতে রাজি নয় ভারতীয় জনতা পার্টি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন থেকেই ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা। মানুষের মন পাওয়ার জন্য এবার বিজেপির পক্ষ থেকে সংকল্পপত্র প্রকাশের আগে প্রত্যেকটি বিধানসভায় সাজেশন বক্স বসানো হচ্ছে। আর সেখানেই সাধারণ মানুষ নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন। এমনকি ফোন বা মেইলের মাধ্যমেও তারা তাদের মতামত পৌঁছে দিতে পারবেন বিজেপির কাছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের যে সমস্ত অভাব অভিযোগ রয়েছে, তা নিজেদের সংকল্প পত্রে তুলে ধরার আগে তাদের মতামত নিয়ে নিতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সেই কারণেই তাদের এই উদ্যোগ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হোন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই সংকল্পপত্র প্রকাশের আগে রাজ্য জুড়ে প্রায় ১ হাজার জায়গায় এই সাজেশন বক্স বসানোর কথা জানিয়ে দেন তিনি। এমনকি আজ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১৮ তারিখ পর্যন্ত চলবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের কাছে পৌঁছতে এবং মানুষের মতামত নিতে বিজেপির এটা একটা মহান উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে বিজেপি যেমন জনসংযোগ কর্মসূচি করতে পারবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষ তাদের মতামত দিয়ে আগামী দিনে বাংলাকে তারা কোন পথে দেখতে চান, তার মনোভাব পোষণ করবেন। আর বিজেপি যদি সেই সমস্ত মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের সংকল্প পত্র ঘোষণা করতে পারে, তাহলে আগামী দিনে জয়ের ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই সুফল পাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।