প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখনই বুঝে যান, তার সামনে বিপদ আসন্ন, তখনই তিনি এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়ে যায়। আসলে ইচ্ছে করেই তিনি এই সমস্ত কথা বলেন, যাতে মূল বিষয় থেকে সাধারণ মানুষ দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফেলেন। অন্তত তেমনটাই মনে কঠিন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত চাপে রয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে, সামনে ২৬ এর নির্বাচনে তার দল সঠিকভাবে ভোট হলে ক্ষমতায় আসবে না। আর তার মধ্যে এসআইআরে যেভাবে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাতে তৃণমূলের এবার আর কামব্যাক করার কোনো চান্স নেই। আর সেই কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এত রনংদেহী মেজাজে দেখা যাচ্ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তার এরকম দুরাবস্থা অতীতে কেউ কোনোদিনও দেখেছেন কিনা, তা কেউ মনে করতে পারছেন না। আর এই পরিস্থিতিতে আজ আবার সেই এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে কেন্দ্রের বর্তমান সরকারের মেয়াদ নিয়েই বড় মন্তব্য করে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগেও এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ নাকি বেশি দিন নেই। তিনি এর আগে বেশ কিছু সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় সীমা পার হয়ে গিয়েছে। এখনও বহাল তবিয়তে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের এনডিও সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন। আর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বুঝতে পারছেন যে, তার এই ক্ষমতায় টিকে থাকা একটা বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। আর ঠিক তখনই আজ নবান্ন থেকে আবারও বেশ কিছু কথা বলে বসলেন তিনি। যে কথার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও। আর মুখ্যমন্ত্রী যখন কেন্দ্রীয় সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন, তখন পাল্টা বিজেপি সেই মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দলের ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়েই তুলে দিচ্ছে বড়সড় প্রশ্ন।
এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সংবিধান মেনে চলে। ২৬ এর পর কেন্দ্রের এই সরকার থাকবে না। এখন থেকে বলছি, খোঁজ রাখুন। অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমরা মুখ খুলিনি। ভদ্রতা করেছি। কিন্তু কেউ যদি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বাচনের আগেই শেষ করতে চায়। আমায় আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘাত করব। তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।” আর এখানেই বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী তো অনেকদিন থেকেই বলছেন যে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পড়ে যাবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তো সেরকম কিছুই হতে দেখা যায়নি। বরঞ্চ ২০২৬ এর পরে তার যে নিজের সরকারটাই পড়ে যাবে এবং তাকে যে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে হবে, এটা বুঝতে পেরেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের প্রলাপ বলেই পাল্টা খোঁচা দিচ্ছে পদ্ম শিবির।