প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে সাজ সাজ রব। এই আবহে আগামী ২৭ মার্চ ফের রাজ্য সফরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় সূত্রের খবর, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো আগামী ২৮ মার্চ (শনিবার) কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করা। প্রথম দফার নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এবং ইশতেহার প্রকাশ রাজ্য রাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।
বিজেপির এবারের নির্বাচনী ইশতেহারটি দীর্ঘ সময় নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। এই সংকল্প পত্র তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির সহ-আহ্বায়ক হলেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। জানা গিয়েছে, ইশতেহারে মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ ও শহরের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি। অমিত শাহের হাত দিয়ে এই ইশতেহার প্রকাশ করে দল ভোটারদের কাছে এক শক্তিশালী ও বিকল্প উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরতে চাইছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। এবারের নির্বাচন মূলত দুটি প্রধান দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (১৫২টি আসন)। দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (১৪২টি আসন)। ভোট গণনা ও ফলাফল: ৪ মে, ২০২৬।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর অমিত শাহের এই সফর রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের পারদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ২৭ মার্চ কলকাতায় পৌঁছানোর পর তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে পারেন। ইশতেহার প্রকাশের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ শানান এবং বিজেপির ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে কী কী নতুন দিশা দেখান, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
ইশতেহারের মাধ্যমেই বিজেপি তাদের আগামী পাঁচ বছরের শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্ট করতে চায়, যা মূলত পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভোটারদের টার্গেট করবে। সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহের এই সফর ও ইশতেহার প্রকাশকে কেন্দ্র করে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন ব্যাপক তৎপরতা। শাহের এই সফরের হাত ধরেই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।