প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত মহাপ্রলয়ের সংকেত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে রণংদেহি মেজাজে তিনি ধরা দিলেন, তাতে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র কম্পন। এতদিন দুর্নীতির সমালোচনা করলেও, এদিন মোদীর গলায় শোনা গেল সরাসরি ‘অ্যাকশন’-এর সুর। তাঁর সাফ বার্তা— “তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, এবার বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।”
এদিন কোচবিহারের জনসভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে সরাসরি তৃণমূলের দুর্নীতির ‘হিসাব’ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। জনতাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনাদের কথা দিচ্ছি, তৃণমূলের প্রতিটি পাপের হিসাব নেওয়া হবে। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।” এখানেই শেষ নয়, আগামী ৪ মে অর্থাৎ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী সময়কে ইঙ্গিত করে মোদী এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, “৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ৪ মে-র পর তবে কি রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজিরবিহীন কোনো ‘অপারেশন’ শুরু হতে চলেছে? প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বেছে বেছে’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা।
নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচার— প্রতিটি ইস্যুতে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তুলোধনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, গরিবের রক্ত জল করা যে টাকা তৃণমূলের নেতারা লুঠ করেছে, সেই টাকা কড়ায়-গণ্ডায় উদ্ধার করে মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। মোদীর ভাষায়, “দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে জেলখানায়, আর লুঠ হওয়া টাকা ফিরবে আপনাদের কাছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই ‘গ্যারান্টি’ শুনে জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলে মোদীর এই ভাষণকে দেখা হচ্ছে স্রেফ নির্বাচনী প্রচার হিসেবে নয়, বরং এক ‘চরম সতর্কবার্তা’ হিসেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে-র পর বাংলা কি তবে নজিরবিহীন কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বড়সড় ধরপাকড় দেখতে চলেছে? প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘বেছে বেছে’ হিসাব নেওয়ার কথা শুনে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি শাসকদলের বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে? তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে দাঁড়িয়ে মোদীর এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা আসলে এক নতুন যুদ্ধের দামামা।
এখন দেখার, ৪ মে-র সেই চূড়ান্ত সময়সীমা পার হওয়ার পর কার কার দরজায় কড়া নাড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাংলার রাজনৈতিক আকাশ এখন এই এক ‘হিসাব’ নেওয়ার উত্তজনাতেই টগবগ করে ফুটছে।