প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বামেরা যখন ক্ষমতা থেকে চলে গেল, তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সভা থেকে বলেছিলেন, বামেদের অনেক তথ্য তার কাছে রয়েছে। অনেক দুর্নীতির ভান্ডার তিনি জানেন। ঠিক সময় হলেই তিনি তা ফাঁস করবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই রকম বামেদের কোনো নেতার বিরুদ্ধে সেরকম কোনো তথ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফাঁস করতে পারেননি। আর বর্তমানে বিজেপি যখন তার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, যখন তিনি বুঝতে পারছেন যে, আর বিজেপিকে আটকানো এই রাজ্যে মুশকিল হবে। তখন সেই একই বুলি আওড়াতে শুরু করেছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যখনই তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন না এবং চাপে পড়ে যান, তখনই তিনি প্রত্যাঘাতের হুংকার দেন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ৭ জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্য ব্যবস্থা না নিলে যে তারাই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন। যেখানে ৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরেই কি আরও বেশি ভয় পেতে শুরু করলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? আর তাই কি এখন গরমাগরম বক্তব্য রাখছেন তিনি?

ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের সাত জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সকলেই তাকিয়ে ছিলেন যে, এই ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বলেন। তার যে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং তিনি যে দ্বিগুণ হারে এই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করবেন, তা এক প্রকার প্রত্যাশিতই ছিলো। কারণ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে এতদিন বিভিন্ন কথা বলে এসেছেন, কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের পর তিনি আরও ঝাঁঝালো আক্রমণ করতে পারেন, তা নিয়ে কোনো মহলেই দ্বিমত ছিলো না। অবশেষে সেটাই হলো। আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনকে এই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করলেন যে, তিনি এবার প্রত্যাঘাতের রাস্তায় হাঁটবেন। আর এখানেই প্রশ্ন, কি প্রত্যাঘাত করবেন তিনি?

এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তিনি বলেন, “১৬০ জনের ওপর মানুষ মারা গেছে। ইআরওদের বিরুদ্ধে একটা পলিটিক্যাল পার্টি বলেছে, তাই তাদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। অনেক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমরা এখনও মুখ খুলিনি। সংসদীয় রাজনীতিতে কেউ যদি মনে করেন, কারও অধিকার কেড়ে নেবেন, তাহলে কিন্তু আমি প্রত্যাঘাত করব।” আর এখানেই বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই রাজনৈতিক আঙ্গিকে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করার চেষ্টা করুন না কেন, লাভের লাভ কিছু হবে না। তৃণমূল নেত্রীর ভীষণ গাত্রদাহ হচ্ছে। কারণ অবৈধ ভোটারদের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আর তিনি যে সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিয়ে এই অনিয়মের কাজটা করাচ্ছেন, সেই সমস্ত আধিকারিকদেরও এখন শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে তার ওপর চাপ বাড়ছে। আর সেই কারণেই মেজাজ ঠিক না রাখতে পেরে এখন প্রত্যাঘাতের হুমকি দিচ্ছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাঘাত করে দেখান বলে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করছে গেরুয়া শিবির।