প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ সকাল থেকেই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা, যিনি বিজেপিতে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছেন, সেই মানুষটিকে নিয়ে প্রচার শুরু হয়ে যায় সংবাদমাধ্যমে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের যুক্ত হচ্ছেন, এই কথা উল্লেখ করে সেই দলবদল দেখিয়ে একটা ন্যারেটিভ স্থাপন করার চেষ্টা হয় যে, সেই মানুষটি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যাচ্ছেন জন্য বিজেপির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু এই দলবদলকে যে বিজেপি মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বস্তরের নেতৃত্বরা। আর সেই ব্যাপারেই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের কত সংখ্যায় বিধায়ক এই বিজেপিতে ঢোকার জন্য লাইন দিয়ে পড়ে আছেন, তা উল্লেখ করে তৃণমূলে যেমন কম্পন ধরালেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তেমনই ২০২১ এর মত ভুল যে বিজেপি এবার আর করবে না, সেই কথাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
রাজ্যের অনেক মানুষের মধ্যেই একটা প্রশ্ন যে, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এত হাওয়া ছিল না। কিন্তু সেই সময়ও তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকে বিজেপিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু এবার তো বিজেপির আরও দ্বিগুণ হাওয়া। এবার যে তারা ক্ষমতায় আসছে, সেই সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে। তাহলে এবার কি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার জন্য কেউ আবেদন করছেন না? তৃণমূলের যে সমস্ত বিধায়করা দলের মধ্যে ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না, তারা কি বিজেপিতে যোগদানের জন্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন করেননি? এদিন সেই ব্যাপারেই এমন এক তথ্য ফাঁস করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এই তৃণমূল থেকে আসা বর্তমান বিধায়কদের অনেকেই বিজেপিতে আসার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। কিন্তু বিজেপি ২০২১ সালের মত ভুল করে যাকে তাকে আর দলে নিতে চায় না। আর সেই কারণেই বেছে বেছে সঠিক লোকেদের দলে নেওয়ার কাজ করছে ভারতীয় জনতা পার্টি বলেই বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে শুভেন্দুবাবুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর তাতে কার্যত পাত্তাই দেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। উল্টে তৃণমূলের কতজন বিধায়ক, যারা টিকিট পাবে না, তারা বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন, সেই তথ্য সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আপনি নেবেন নাকি? তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়ক, যারা টিকিট পাবে না, তারা আমাদের দলে আসতে চায়। কিন্তু আমরা নেব না। আমরা দেখে শুনে নিচ্ছি। আমরা দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর মত ব্যক্তিকে নিচ্ছি।” অর্থাৎ ২০২১ সালে যাকে তাকে দলে নেওয়া যে বিজেপির ক্ষতির কারণ, তা বুঝতে পেরেছে সমস্ত নেতৃত্বরা। আর সেই কারণেই তা উপলব্ধি করেই তৃণমূলের অনেক বর্তমান বিধায়ক বিজেপিতে আসতে চাইলেও, তাদের জন্য যে রাস্তা বন্ধ, এক্ষেত্রে সঠিক লোকেদেরই যে বিজেপি দলে নেবে, তা বুঝিয়ে দিয়ে কর্মীদের আবেগ যে দলের কাছে সবার আগে সম্মানের, তা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।