প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল থেকেই দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং খবরের চ্যানেলগুলিতে একটি খবর দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয় যে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির বিরাট ধ্বস। কারণ সেখানে কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে মানুষটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, যে মানুষটি বিজেপির সঙ্গে অনেকদিন থেকেই দূরত্ব বাড়াচ্ছে, এমনকি বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে ৫ হাজারের মত মাত্র ভোট পেয়েছেন, সেই মানুষটিকে তৃণমূল কংগ্রেস দলে নিয়ে কি এমন লাভ করতে পারবে? তবে অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার জন্য এবং তাদের পক্ষে প্রচার দেওয়ার জন্যই যে দিনভর এই বিষ্নুপ্রসাদ শর্মাকে নিয়ে মাতামাতি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই গোটা দলবদল প্রক্রিয়াকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি। বরঞ্চ তারা মনে করছে যে, বিজেপিতে থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলার থেকে তৃণমূলে এই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার চলে যাওয়া তাদের ক্ষেত্রেই ভালো হয়েছে। তবে যারা বলছেন যে, এতে তৃণমূলের লাভ হবে, সেক্ষেত্রে তৃণমূলের ঠিক কতটা লাভ হতে পারে, এবার সেই কথা উল্লেখ করে শাসক দলকে খোঁচা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

গতকাল দিনভর অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা খবর করতে থাকেন যে, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদল নিয়ে এমন একটা ন্যারেটিভ স্থাপন করার চেষ্টা হয়, যেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা না থাকলে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এবং বিজেপির কাছে তিনি যে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছেন, এটা হয়ত সেই অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা বুঝতে পারেননি। তাই এই বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেও বিন্দুমাত্র এফেক্ট করেনি তা বিজেপির কাছে। বরঞ্চ বিজেপি নেতৃত্ব খুব ভালো মতই উপলব্ধি করেছে যে, এই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে চলে গিয়ে তাদেরই আখেরে লাভ হয়েছে। যে ব্যক্তি বিজেপির টিকিটে বিধানসভায় জিতে বিজেপির লোকসভার প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং পাঁচ হাজারের মতো ভোট পায়, তার যে গ্রহণযোগ্যতা বলে কিছু নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তৃণমূল এবং মিডিয়াদের একটা অংশ এই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার শাসক দলে যোগদান নিয়ে মাতামাতি করলেও, তাতে গুরুত্বই দিচ্ছে না বঙ্গ বিজেপি।

এদিন এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে একটি প্রশ্ন করা হয়।‌ আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বিজেপিকে গালমন্দ করবে, এটা তো নতুন কিছু নয়। উনি তো লোকসভা ভোটেই আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তৃণমূলের এটাতে লাভ হলো। একটা ভোট বাড়লো। ওনার ভোটটাই তৃণমূল পাবে, আর কিছু পাবে না। আমরা তৃণমূলকে বলছি, ওনাকেই যেন ওখানে দাঁড় করায়।” অর্থাৎ একসময় বিজেপি তাকে টিকিট দিয়ে বিধায়ক করলেও, এই মানুষটির যে বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং সেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া মানুষটিকে তৃণমূল ঘরে নিয়ে এখন প্রচার করার চেষ্টা করছে যে, বিজেপি উত্তরবঙ্গে শেষ, তাতে কিন্তু আখেরে ক্ষতি হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসেরই। তাই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার এই তৃণমূলে যোগদান বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে এবং বিজেপি নিশ্চিত যে, আগামী দিনে তৃণমূল যদি এখান থেকে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে দাঁড় করায়, তাহলে বিজেপি প্রার্থী আরও বিপুল মার্জিনে জয়লাভ করবে। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তেমনটাই স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।