প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সম্প্রতি সিপিএমের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে অনেক কথা বলছেন প্রতিকূর রহমান। এমন একটা ভাব অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা তাকে প্রচারের আলোয় এনে দেখাতে শুরু করেছে, যেন তিনি বড় মাপের নেতা। মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে তিনি কি বলছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে। এমনকি এটাও বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে যে, এই প্রতিকূর রহমান যদি তৃণমূলে যোগ দেন, তাহলে নাকি তৃণমূল আরও অনেক বড় জায়গায় চলে যাবে। কিন্তু সত্যিই কি এই প্রতিকূর রহমানের কোনো গ্রহণযোগ্যতা রাজ্য রাজনীতিতে রয়েছে? যদি ব্যক্তিগতভাবে তার বিন্দুমাত্র জনপ্রিয়তা থাকতো, তাহলে কি তিনি আদৌ তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিতেন? এই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে উঠছে। আর এসবের মধ্যেই এবার সেই প্রতিকূর রহমানের মুখোশ খুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৪ এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের টিকিট নিয়ে লড়াই করলেও, আদতে যে সেটিংটা তখন থেকেই ছিলো এবং সেই ব্যাপারে তিনি যে আগেভাগেই সমস্ত কিছু জানতেন, তা ফাঁস করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বেশ কিছুদিন ধরেই খবরের শিরোনামে ছিলেন প্রতিকুর রহমান। যতদূর যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কি হবে, তার দিকে সকলের নজর থাকবে। তবে যে প্রতিকুর রহমানকে নিয়ে এত লাফালাফি করছেন, মিডিয়াদের একাংশ একটা বিড়ালকে যেভাবে বাঘ বানানো হচ্ছে, তাতে তিনি যে অন্তত ভাবিত নন, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি বৃথা এই সমস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আর তাদের ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেখানো হচ্ছে বলেও মনে করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তার মতে, যদি অতই ক্ষমতা থাকে লড়াই করার, তাহলে তৃণমূলে না গিয়ে লড়াই করার দম দেখাক প্রতীকূর রহমান। কিন্তু তার সেই গ্রহণযোগ্যতা বা জনপ্রিয়তা কিছুই নেই। বৃথা তাকে এই সময় অনুপ্রাণিত মিডিয়ারা বাঘ হিসেবে দেখিয়ে প্রচারের আলোয় আনার চেষ্টা করছে বলেই মনে করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।
গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই প্রতিকুর রহমানকে নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কে প্রতিকুর রহমান? সিপিএম ছাড়া ওর কোন রাজনৈতিক প্রভাব আছে? আপনাদের কাজই হচ্ছে কিছু বিড়ালকে বাঘ বানানো। এটা তো প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে, প্রতিকূর রহমান কেন লড়েনি! ২৪ সালে কেন ডায়মন্ড হারবারে আত্মসমর্পণ করেছিল? এটা তো আজকের চুক্তি নয়। ২৪ সাল থেকেই চুক্তি হয়েছিল। প্রতিকূর রহমান কে? প্রতিকূর রহমানের দম আছে আলাদাভাবে লড়াই করার? আমি যখন তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ি, তখন এই ববি হাকিম, কল্যাণ ব্যানার্জিরা বলেছিল যে, শুভেন্দুর পেছন থেকে মমতা ব্যানার্জি ছবি সরে গেলে সামনে একটা চেয়ারেও কেউ থাকবে না। আমি তো মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছি। আর এবারেও ভবানীপুরে হারাবো, সেই দায়িত্ব আমি নিয়েছি। এই প্রতিকুর রহমান তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরবেন। এটা অনেক আগে থেকেই আমি জানি।”