প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাবরি মসজিদ তৈরিকে কেন্দ্র করে প্রথমে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন দল গঠন করেছেন হুমায়ুন কবীর। এখন আবার তিনি দাবি করছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি, এই দুই দলের বিরুদ্ধে লড়াই করেই তিনি এত সংখ্যক বিধায়ক নিয়ে আসবেন যে, আগামী দিনে তিনি রাজ্য বিধানসভায় নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবেন। এমনকি যে সমস্ত সংখ্যালঘু বিধায়কদের তিনি জিতিয়ে আনবেন এবং তাদের সংখ্যা এমন পর্যায়ে থাকবে যে, তারা আগামী দিনে বাংলায় মুসলিম শাসন জারি করার দিকে এগিয়ে যাবেন। আর হুমায়ুনবাবুর এই ভয়ংকর মন্তব্য ঘিরে অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি নেতারা। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করেই লড়াই করার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন কবীর। তবে এবার তিনি যে সংখ্যার জোড় দেখাচ্ছেন এবং এত সংখ্যা পেলে ক্ষমতায় এলে মুসলিম শাসন জারি হবে বলে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুন কবীরের এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করলেও, আর যাই হোক, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত সেকুলারিজমের কথা বলে কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করেন না। যা করার একদম সামনাসামনি করেন বলেই মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

ইতিমধ্যেই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন হুমায়ুন কবীর। আর প্রথম দিন থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করে আসছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই বাবরের নাম মুছে দেওয়া হবে। আর এবার সেই হুমায়ুনবাবু আবার আরও বড় হুঙ্কার দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, আগামী দিনে তারা যদি বেশি সংখ্যা পান, তাহলে বাংলা মুসলিম শাসন জারিপথে এগিয়ে যাবেন। আর এতেই রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়ছেন হিন্দু সনাতনীরা। বাংলায় এমনিতেই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলে অভিযোগ করে বিরোধীরা। আর তার মধ্যে হুমায়ুন কবীর এবার যে সমস্ত কথা বলছেন, তাতে চিন্তা আরও বাড়ছে। আর তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার বড় প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই হুমায়ুন কবীরের এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “একটা লোক পার্টি ছেড়েছে বা পার্টি সাসপেন্ড করেছে, বাবরের নামে মসজিদ তৈরিকে কেন্দ্র করে। ওনার ঘোষিত অবস্থান, বাবরি মসজিদ নির্মাণ। সেটার উদ্দেশ্য তিনি এমন দিন করেছেন, যেদিন বিতর্কিত ধাচাতে করসেবকরা পুনরায় রাম জন্মভূমিকে উদ্ধার করেছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ হয়েছে। আমি সেই বিষয়ে যাচ্ছি না। কিন্তু যে ব্যক্তির বিদ্রোহ সূচিত হয়েছে, তার যে প্রার্থনা ঘর সেটা বাবরের নামে তৈরি করার মধ্যে দিয়ে, তাই তার তো ঘোষিত অবস্থান এটাই থাকবে এবং তার ক্যাপিটাল পুঁজি এই মুসলিম ভোটব্যাংকই হবে। কাজেই এটা তার ঘোষিত অবস্থান। মমতা ব্যানার্জির মত সেকুলারিজমের নামে তোষণের রাজনীতির কথা তো বলেননি। ঘোষিত কথা বলেছেন।”