প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে আজ প্রতিকুর রহমান যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিলেন তিনি। এতদিন ধরে যে চর্চা তাকে নিয়ে হচ্ছিল, অবশেষে তাতে সীলমোহর পড়লো। এখন নতুন একটা আঙ্গিকে অনুপ্রাণিত মিডিয়া তৃণমূলকে আরও হাই লেভেলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই খবর দিনভর প্রচার করবে। এটা সকলেরই জানা। কিন্তু এই বিষয় নিয়েই একটু আলোচনা না করলেই নয়। তৃণমূলের তো এখন নাকি খুব ভালো অবস্থা। তৃণমূল নাকি সমস্ত আসনে বিজেপিকে হারিয়ে দেবে। আজকে তারা প্রতিকূরের মত বামপন্থী একটি ছেলেকে দলে নিলো। কিন্তু সেখানেই সেই প্রতিকূর রহমান সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা বলে বসলেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, প্রতিকূর কি তাহলে জনতার মনের কথা বুঝতে পেরেছেন? আর সেই জন্যই কি টিকিট দিতে চাইলেও তৃণমূলের টিকিট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি?
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মনের অনুভূতি কি, তা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও খুব ভালো মত বুঝতে পারছেন। সেই জন্য ন্যারেটিভ পরিবর্তন করতে তারা বিরোধীদের মধ্যে থাকা যে সমস্ত অপ্রাসঙ্গিক নেতৃত্বরা রয়েছে, তাদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে। বিজেপির বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে তারা দলে নিয়েছিল। আজ আবার এতদিন ধরে চর্চা হওয়া প্রতিকূর রহমানকে তারা নিজেদের দলে যোগদান করালো। এখন অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ছিল যে, হয়ত কোনো কিছুর বিনিময়েই প্রতিকূর রহমানকে দলে নিয়েছে তৃণমূল। হয়ত তাকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। অনেকে আবার বলছেন, যেহেতু তরুণ মুখ, সামনে যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন, তাই তাকে হয়ত টিকিট দিতে পারে রাজ্যের শাসক দল। কিন্তু না, তৃণমূল হয়ত টিকিট দিতে চাইছিল প্রতিকূর রহমানকে। কিন্তু প্রতিকূর রহমান নিজেই নাকি টিকিট নিতে চাইছেন না। আজ এই যোগদান পর্বের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত তেমন কথাই বললেন। আর এখানেই পাল্টা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন বামেদের প্রতিকূর রহমান। আর সেখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রতিকূর আমাকে নিজে এসে বলছে, দাদা দল যদি আমাকে টিকিট দেয়ও, আমি টিকিট নেব না।” আর এখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, তৃণমূলের তো এখন ভালো সময় চলছে। তৃণমূল নেতারাই তো সেই কথা বলেন। তাহলে প্রতিকুর রহমানের মত মানুষ, দল তাকে টিকিট দেবে, অথচ তিনি নেবেন না? এটা কি সত্যিই বিশ্বাস করা যায়? কারণ এই প্রতিকূর রহমানেরই তো অভিযোগ ছিলো যে, সিপিএমে তিনি নাকি সম্মান পাচ্ছেন না। তাকে নাকি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের শাসক দলে রয়েছে, অথচ সেখানে তাকে নেতৃত্ব টিকিট দেবে, আর তিনি এই সম্মানটা ছুঁড়ে ফেলে দেবেন! এটা কি আদৌ সম্ভব? নাকি সবটাই লোক দেখানো কথা? অনেকে বলছেন, এসব কিছু নয়। আসলে প্রতিকূল রহমান নিজেও জনতার মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছেন। তিনি জানেন, তিনি একটি ডুবন্ত জাহাজে এসে উঠেছেন। এবারে তৃণমূলের বিসর্জন অনিবার্য। তাই সিপিএমে থাকার সময় যেমন হেরেছেন, ঠিক তেমনই এই ডুবন্ত জাহাজে আবার ২৬ এর নির্বাচনে হারলে তার মান সম্মান বলে কিছু থাকবে না। তাই শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক, টিকিটের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেই দাবি বিরোধীদের।