প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের রাজনীতিতে ভোট আসবে, আর মুকুন রায়ের নাম শোনা যাবে না, এটা হতেই পারে না। তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যাওয়ার পর থেকেই যেভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং যেভাবে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। যে মানুষটি ভোট এলেই পতাকা, মিটিং, মিছিল, রণকৌশলের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতেন, ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই পরপারে বিদায় নিলেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ রোগ যন্ত্রণার পর গতকাল রাত আড়াইটা নাগাদ বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়।

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দলের জন্ম লগ্ন থেকেই রাজনীতির ওঠা পড়ায় সব সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অবশেষে ২০১৭ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। তারপর আবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করলেও তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন মুকুল রায়। আর তারপর থেকেই ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য। অবশেষে ভোটের আগেই সকলকে বিদায় জানালেন তিনি।

সূত্রের খবর, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও, স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না মুকুলবাবু। তার পুত্র শুভ্রাংশু রায় বারবার বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উস্মা প্রকাশ করেছেন। গতকাল রাত্রি দেড়টা নাগাদ হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। আর তারপরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল রায়। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। রাজনীতির ওঠা পড়ায় যারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত, সেই সমস্ত কর্মীদের নাম এবং পার্টি অফিস ধরে ধরে চিনতেন এই মুকুল রায়। এমনকি তিনি যে মনোযোগ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল করলে প্রতিপক্ষ শিবিরকে কাবু করতে সক্ষম, তা বিজেপিতে গিয়েও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য। স্বাভাবিক ভাবেই মুকুল রায়ের এই প্রয়াণ ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে যে একটা বিরাট শূন্যতা তৈরি করলো এবং এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাভাবিকভাবেই মুকুল রায়ের এই চলে যাওয়া রীতিমত শোকের আবহ তৈরি করেছে রাজনৈতিক মহলে।