প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সম্প্রতি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য জায়গায় লাইসেন্স ছাড়া মাছ-মাংস বিক্রি না করার কথা বলেছেন। আর সেই বিষয়টিকে এমন আঙ্গিক নিয়ে প্রচার করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস যে, তারা এখন বলতে শুরু করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গেও যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে মাছ-মাংস বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে ভোটে জিততে এবং বাংলা ও বাঙালিকে বিজেপির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতেই যে তৃণমূলের এই ধরনের মিথ্যা প্রচার, তা বুঝতে বাকি নেই সাধারন মানুষের। আর বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস বন্ধ হয়ে যাবে বলে যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন, এবার তাদেরকেই পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ক্ষমতায় ফেরা যে যথেষ্ট প্রশ্ন চিহ্নের বিষয়, তা স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, তার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তিনি কতটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে হিন্দুদের একত্রিত করে এবার ভোটের ময়দানে নামতে চাইছে বিজেপি, তাতে চাপ বাড়ছে রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে। ক্রমাগত বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, এবার যদি পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন না হয় এবং বিজেপি যদি ক্ষমতায় না আসে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যেতে পারে। এমনকি এখানে হিন্দুদের সুরক্ষা বলতে কিছু থাকবে না বলেও দাবি করছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। আর এই পরিস্থিতিতে বিহারের একটি ঘটনাকে টেনে এনে বাংলাতেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে লাগাতার প্রচার করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে তাদের সেই যুক্তিকে পাল্টা কটাক্ষ করে হেরে যাওয়ার ভয়েই যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে পাল্টা জবাব দিলেন গিরিরাজ সিং।
এদিন এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি ভয় পাচ্ছেন। কারণ বাংলার জনতা এবার তৈরি আছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি থাকেন, তাহলে বাংলা বাংলাদেশ হয়ে যাবে।” অর্থাৎ এই রাজ্যের বুকে বিজেপি নেতৃত্বরা যে অভিযোগ করছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ করে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই একই কথা বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহও বুঝিয়ে দিলেন, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতা হারানোর ভয় পাচ্ছেন। আর সেই কারণেই বিভিন্ন রকম কথা বলে বিজেপিকে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি বলেই দাবি এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।