প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। আর তার এই পদত্যাগের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন চর্চা চলছে। আর তার কিছু সময় পরেই জানা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন আর এন রবি। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের মুখে সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ এবং নতুন একজন রাজ্যপালের পশ্চিমবঙ্গে আসা ঘিরে রীতিমত জল্পনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আর এতদিন যে সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে বিভিন্ন কথা মুখ্যমন্ত্রী বলতে শুরু করেছিলেন, এমনকি তিনি নিজেও এটাও বলেছিলেন যে, তিনি একা রাজভবনে আসবেন না, তিনি আতঙ্কিত। আর সেই মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ করেই তার পদত্যাগের খবর পেয়েই কেন এত চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন? তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন যে, এবার খেলাটা অন্যভাবে হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারকে টাইট দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন জগদীপ ধনকর। তারপর সিভি আনন্দ বোস দায়িত্ব নিলেও তিনি সেভাবে তৃণমূল সরকারকে চাপে রাখতে পারেননি বলেই অনেকে দাবি করেন। তাই তৃণমূলও খুব ভালো মতই অরাজকতা তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গকে আরও ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাওয়ার কারণেই এবার সেই আনন্দ বোসের পদত্যাগে মুখ্যমন্ত্রী রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

আজ সন্ধ্যার দিকেই খবর আসে যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সিভি আনন্দ বোস। আর তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত বলেও দাবি করেন। এমনকি তার সঙ্গে আলোচনা না করে এবং কোনো পরামর্শ না করেই একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এক্ষেত্রে সিভি আনন্দ বোসের এই পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর হঠাৎ করেই যে সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে এতদিন তিনি বিভিন্ন কথা বলেছিলেন, তার পদত্যাগের পর মুখ্যমন্ত্রীর এত কেন দরদ উথলে পড়ছে? তা নিয়ে পাল্টা খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা।

বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে, এবার আর ক্ষমতায় আসা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর তার মধ্যেই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের পদত্যাগ এবং আর এন রবির মত প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে তিনি যে আর অনিয়ম, অরাজকতা করতে পারবেন না, তা খুব ভালো মতই বুঝে গিয়েছেন। আর সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এখন নিজের দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ভোট ঘোষণার আগে এইভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বদলের ফলে তিনি সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন। নতুন যিনি রাজ্যপাল হয়ে আসছেন, তিনি যে কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবেন না এবং চোখে চোখ রেখে যেটা ঠিক, যেটা সঠিক, সেই অনুযায়ীই পথ চলবেন, সেই খবর হয়ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। আর সেই কারণেই এতদিন যে সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন কথা বলতেন, সেই সিভি আনন্দ বোসকে নিয়েই রীতিমত দরদ উথলে পড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেই সোচ্চার হচ্ছে বিরোধীরা।