প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সব দিক থেকেই বিপদ ধেয়ে আসছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। একদিকে এসআইআরের চাপ, আর অন্যদিকে সম্প্রতি রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আর এন রবিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খবর পাওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন যে, তার সঙ্গে এই বিষয়ে নাকি আলোচনা পর্যন্ত করা হয়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাকে রাজ্যপাল করা হবে, সেই ব্যাপারে কেন তার কাছে শুনতে হবে? আর এসবের মধ্যেই আজ সেই বাংলার নতুন রাজ্যপালকেও যা ইচ্ছে তাই বলে আক্রমণ করতে শুরু করলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সংবিধানের পরিপন্থী বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

এখনও পর্যন্ত যে মানুষটি দায়িত্বই নিলেন না, যে মানুষটিকে বাংলায় আসতেই দেখা গেল না, সেই মানুষটি সম্পর্কেই যা ইচ্ছে তাই বলা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বোঝাই যাচ্ছে যে, তার মধ্যে আতঙ্ক কতটা গ্রাস করেছে। আসলে তিনি ওই তামিলনাড়ুতে তার যে বন্ধু দল আছে, যেখানে রাজ্যপাল থাকাকালীন এই আরএন রবি খুব কড়াভাবে টাইট দিয়েছিলেন, সেই খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে গিয়েছেন। আর সেই কারণেই তিনি এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বাংলার রাজ্যপাল হয়ে আসার কারণে রীতিমত তটস্থ হয়ে রয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে যিনি দায়িত্ব নিতে আসছেন, তিনি খুব একটা নরম লোক নন। আইনের লোক তিনি্ কাজেই কড়া ভাষায় জবাব দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত‌। যদি কোনো অনৈতিক কাজে এই সরকারের তিনি দেখেন, তাহলে হাতেনাতে ধরে পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও তিনি দুবার ভাববেন না। ইতিমধ্যেই ভোটের এখনও পর্যন্ত ঘোষণা না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি শাসনেই এই রাজ্যে ভোট হবে কিনা, তা নিয়ে একটা চর্চা চলছে। আর তার মধ্যেই এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে আসা খবর রীতিমত ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে এই রাজ্যের শাসক দলের। আর সেই কারণেই এবার আতঙ্কিত হয়ে সেই আরএন রবিকে বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার বলে মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন রাজ্যের এই নতুন রাজ্যপাল সম্পর্কে ধর্না মঞ্চ থেকে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাকে এখানে নিয়ে এসেছেন, তার বিরুদ্ধে আমি যেটা শুনেছি যে, তাকে সুপ্রিম কোর্টে অনেক কমেন্ট শুনতে হয়েছে। যখন তিনি তামিলনাডুতে ছিলেন। কোনো কাজ করেন না বিজেপি ছাড়া। বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। তামিলনাড়ুতে যা করেছেন, করেছেন। বাংলা কিন্তু অন্য।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী তো সরাসরি এই নতুন রাজ্যপালকে হুমকি দিয়ে বসলেন। আসলে তার আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। তাই সাংবিধানিক প্রধানকে নিয়েও এখন ভয় পাচ্ছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বুঝতে পারছেন যে, তার সরকার যে অনৈতিক কাজগুলি করেছে, তা এই আর এন রবির মত প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সহ্য করবেন না। আর সেই কারণেই এইরকম দক্ষ ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে আসায় আগে থেকেই তাকে আক্রমণ করে রীতিমত সংবিধানকেই চ্যালেঞ্জ করছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেই দাবি বিরোধীদের।