প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একেবারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় আসছেন না। আর সেই কারণে প্রথমে রাজ্য বাজেটে বেকার যুবক যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। তারপর সেখানে বলেছিলেন যে, ক্ষমতায় আসার পর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে কিছুদিন আগে তিনি সেই সময়সীমা এগিয়ে নিয়ে এসে এপ্রিল মাস থেকে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। আর গতকাল ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন যে, আজ থেকেই এই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। তবে প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী যখন এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন, তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই প্রকল্পের টাকা দিতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভোট যখন এগিয়ে আসছে, তখন নিশ্চিত করেই তার কাছে খবর গিয়েছে যে, তিনি আরো ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। এমনকি যুবসাথী প্রকল্প ঘোষণা করেও বেকার যুবক যুবতীরা তার দলকে ভোট দেবে না। আর সেই কারণেই আরও এগিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর গতকালের এই ঘোষণা বলেই মনে করছে বিরোধীরা। তবে যতই মুখ্যমন্ত্রী এই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা এখন থেকে দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, এর ভ্যালিডিটি মাত্র দুই মাস। তাই দুই মাস পর আর এই টাকা তিনি দিতে পারবেন না বলে পাল্টা দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ধর্না মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন যে, আজ থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। কিন্তু হঠাৎ করেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা কেন? তিনি তো প্রথমে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তারপর তার প্রশাসন হয়ত তাকে খবর দিয়েছে যে, পরিস্থিতি ভালো নয়। তাই এই প্রকল্পের টাকা আগে দিলে ভালো হয়। সেই জন্য তিনি এপ্রিল মাস থেকে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। আর গতকাল হঠাৎ করে তার এই চমক আসলে তার ক্ষমতা তিনি হারাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই যে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের চমকপ্রদ ঘোষণা, তা বুঝতে বাকি নেই বিরোধীদের। আর আর এখানেই অনেকে বলছেন, তাহলে শুভেন্দু অধিকারী এতদিন আগে যে বলেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী এই টাকা দিতে পারবেন না, তিনি তো এখন সেই টাকা দিতে শুরু করলেন। তাহলে এখন শুভেন্দুবাবু কি বলবেন? অবশেষে সেই ব্যাপারে মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “উনি বলছেন, এই প্রকল্পের টাকা উনি পাঁচ বছর দেবেন। আমি বলছি, দুই মাস। উনি ১৩ সালে ১৭ লক্ষ ফর্ম নিয়েছিলেন। ১৬ সালের পর থেকে টাকা দেননি। বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কেজি দরে সেই ফর্মগুলো বিক্রি করে দিয়েছিলেন। উনি এসব করছেন, ভোটের জন্য। ভারতীয় জনতা পার্টি এই কাজ করে না। ২১ টি রাজ্যে আমাদের যে সংকল্প ছিলো, তা ভারতীয় জনতা পার্টি প্রয়োগ করেছে। তাই বেকার যুবক-যুবতীদের উপযুক্ত অর্থনৈতিক সুরক্ষা ভারতীয় জনতা পার্টি দেবে।”