প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকালই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসেছে। আজ দফায় দফায় বৈঠক করেছে তারা। যেখানে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সেই একই কান্নাকাটি আবার শুরু করে দিলো। কটাক্ষ করে অন্তত তেমনটাই বলছে বিরোধীরা। যেখানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে কিভাবে ভোট করানো উচিত, তারা কি চাইছে, সেই কথা তুলে ধরেছিল, সেখানে তৃণমূলের একটাই আপত্তির জায়গা তারা তুলে ধরেছে যে, এসআইআরে এত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই যে বিষয়টি নিয়ে তারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে, যে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট দেখছে, সেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এই সর্বদলীয় বৈঠকে তোলার অর্থ কি, তা নিয়ে পাল্টা সেই বৈঠকে তৃণমূলকে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। আর তাতেই প্রবল গোঁসা হয়েছে তৃণমূলের নেতা নেত্রীদের।
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআরের ফলে সবথেকে বেশি আতঙ্কিত। প্রথম দিন থেকেই তারা এসআইআরের বিরোধিতা করছে। যে কোনো স্বাভাবিক মৃত্যুকেই তারা এসআইআরের জন্য মৃত্যু বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। তবে তৃণমূলের এই চালাকি খুব ভালো মতই ধরে ফেলেছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং নির্বাচন কমিশন। এর আগেও দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বাইরে বেরিয়ে এসে তাকে অপমান করা হয়েছে বলে অনেক অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ সেই কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন রাজ্যে এসেছে, তখন সর্বদলীয় বৈঠকে সেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে গিয়েছিলেন ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার। আর বাইরে বেরিয়ে এসেই চন্দ্রিমাদেবী যে সমস্ত বক্তব্য রাখলেন, তাতেই বোঝা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের অযৌক্তিক দাবিকে প্রাধান্যই দেয়নি।
জানা গিয়েছে, এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এসআইআরের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। আর সেখানেই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আর তখনই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, তাহলে আমাদের ডেকেছেন কেন? যখন ডেকেছেন, তখন আমাদের কথা শুনতে হবে। অর্থাৎ এসআইআর নিয়েই যে তৃণমূল যাবতীয় কথা বলে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে চাইছিলো, তা খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। তাই যখন তারাই নিজে থেকে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে, তখন যে মামলাটা বিচারাধীন, সেই নিয়ে যে নির্বাচন কমিশনের বলার কিছু নেই, সেই কথাই নির্বাচন কমিশন বলেছে। আর নিজেদের কথা না বলতে পেরে বাইরে বেরিয়ে এসে চন্দ্রিমাদেবীরা নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আবারও যা ইচ্ছে তাই বলা শুরু করলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা।