প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বর্তমানে যিনি রাজ্যপাল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাকে ম্যানেজ করা যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না, তা আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর আগের রাজ্যপালকে তিনি হাতে খড়ি দিয়ে অনেক ভাবে ম্যানেজ করেছিলেন। কিন্তু এবারে যিনি রাজ্যপাল, তিনি সংবিধানের এবিসিডি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভালো করে বুঝিয়ে দেবেন বলে প্রথম দিনেই মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দুবাবু। আর এই পরিস্থিতিতে গতকাল সেই রাজ্যপাল শপথ নেওয়ার পর আজ লোকভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর রাজ্যপালের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের দিনেই তিনি সংবিধানকে বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন বলেই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এই রাজ্যে যেভাবে বিধানসভা চলাকালীন বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়, যেভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিনিয়ত আক্রমণ হয়, তাতে রাজ্যে যে গণতন্ত্র নেই, সেই বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছে বিজেপি। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের কাছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা এর আগে তদ্বির করেছে। কিন্তু সাংবিধানিক প্রধানের কাছ থেকে সেই ভাবে যা প্রত্যাশা বিজেপির পক্ষ থেকে করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি বলেই শোনা যায়। আর এসবের মধ্যেই আজ লোকভবনে গিয়ে নয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরেই রাজ্যের সংবিধান যেভাবে বিপন্ন, যেভাবে গণতন্ত্র আক্রান্ত, সেই সমস্ত বিষয় তুলে ধরলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। নয়া রাজ্যপালের কাছে তার একটাই অনুরোধ, সংবিধানকে বাঁচান।

এদিন লোকভবন থেকে নয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরেই বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাজ্যপালকে বিস্তারিত ঘটনার কথা খুলে বলেছেন বলে জানান শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, “আমি হাতজোড় করে রাজ্যপালকে বলেছি, সংবিধান বাচান। পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতাকে সাড়ে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে রেখেছে। পাঁচবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যপালকে বলেছি, আপনি এটা অন্য কোথাও দেখেননি। খগেন মুর্মুকে মারা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এখানে আক্রান্ত হচ্ছে। বিরোধীদের সাংসদ, বিধায়ক কেউ এখানে নিরাপদ নন।”