প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবথেকে বড় চমক হতে চলেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্র। সূত্রের খবর, দীর্ঘ কয়েক দশক পর ফের বিধানসভার লড়াইয়ে নামতে চলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে, যিনি একসময় অধীর চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হারের পর অধীর চৌধুরী কি পারবেন তাঁর হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে? নাকি লড়াই হবে অন্য কারোর?

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে অধীর চৌধুরী তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে প্রায় ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বহরমপুর বিধানসভা এলাকাতেও কংগ্রেসের ভোট শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই কেন্দ্রটি বর্তমানে বিজেপির দখলে। বিজেপির সুব্রত মৈত্র প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী মাত্র ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। ফলে লড়াইটা এখন আর কেবল কংগ্রেস বনাম তৃণমূল নেই, বরং বিজেপি এখানে সবথেকে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এবার স্লোগান তুলেছেন, “কথায় নয়, আমি কাজে বিশ্বাসী।” তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি প্রকল্পের সুবিধাগুলোকে হাতিয়ার করে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীর চৌধুরী যদি নিজে প্রার্থী হন, তবে লড়াইটি মূলত ‘ব্যক্তিত্বের’ লড়াইয়ে পরিণত হবে। তবে অধীরবাবুর বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তাঁর নিজের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। যা সাম্প্রতিক কালে দ্রুত তৃণমূল এবং বিজেপির দিকে সরে গিয়েছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, অধীর চৌধুরী এবং নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের এই সম্মুখ সমরে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অধীর চৌধুরী লড়াইয়ে নামলে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের দিকে যেতে পারে, যা সরাসরি তৃণমূলের ক্ষতি করবে।

অন্যদিকে, ২০২১-এর জয়ের ধারা বজায় রেখে বিজেপি যদি তাদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক এবং হিন্দু ভোট সংহত করতে পারে, তবে এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে গেরুয়া শিবিরই। অধীর চৌধুরী প্রার্থী হওয়া মানেই লড়াইয়ে বাড়তি উত্তেজনা। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, বহরমপুরের মানুষ এখন আর শুধু ‘রবিনহুড’ ইমেজে ভুলতে নারাজ। তাঁরা উন্নয়ন এবং স্থায়ী বিকল্প খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরী কি পারবেন তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, নাকি নাড়ুগোপাল আর বিজেপির সাঁড়াশি চাপে ‘বহরমপুরের বেতাজ বাদশা’র বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে? উত্তর দেবে ২০২৬-এর ব্যালট বাক্স।