প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজনীতির ময়দানে লড়াই যখন আদর্শের, তখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি আদৌ ফ্যাক্টর? ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা শিলিগুড়ি স্টেশনে পা রেখেই বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে ‘মা’ সম্বোধন করে যে ইমোশনাল কার্ড খেলেছেন, তাকে আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের নিরিখে যেখানে মোদী সরকার ও শিখা চট্টোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে দাপট দেখাচ্ছেন, সেখানে তৃণমূলের এই ‘পারিবারিক আবেগ’ মানুষের মন কতটা ভোলাবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।
২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রটি ছিল তৃণমূলের গৌতম দেবের দখলে। কিন্তু ২০২১ এর আগে তৃণমূলের সেই দুর্গে ফাটল ধরান শিখা চট্টোপাধ্যায়। ২০২১-এর নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তিনি যে রেকর্ড জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন, তা প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, এই কেন্দ্রের মানুষ তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি চায়। টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে আসা শিখা আজ এই কেন্দ্রের অবিসংবাদিত নেত্রী। অন্যদিকে তৃণমূল এবার গৌতম দেবকে সরিয়ে রঞ্জন শীল শর্মাকে টিকিট দিলেও দলের অন্দরে সেই পুরনো কোন্দল মিটবে কি? তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বলা বাহুল্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিখা চট্টোপাধ্যায় প্রায় ২৭,০০০ এর বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ডেও এই অঞ্চলে বিজেপির লিড বজায় ছিলো। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনমুখী প্রকল্প এবং শিখা চট্টোপাধ্যায়ের সরাসরি মানুষের পাশে থাকার ভাবমূর্তি বিজেপির পাল্লা ভারী রাখছে।
অনেকেরই প্রশ্ন, গত দশ বছরে এই এলাকাকে ‘পুরসভা’ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও গৌতম দেব ব্যর্থ হন। আজ রঞ্জন শীল শর্মা সেই একই টোপ দিলে মানুষ কি তা বিশ্বাস করবে? রাজনৈতিক আদর্শ কি কেবল ‘মাতৃস্নেহ’ দিয়ে ঢাকা সম্ভব? রঞ্জনবাবু মুখে আশীর্বাদের কথা বললেও, ভোটাররা কি তৃণমূলের দুর্নীতির ইতিহাস ভুলে যাবেন? স্থানীয় মানুষজনের মতে, শিখা চট্টোপাধ্যায় ২০২১ এ যে উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়েছেন, এক নতুন প্রার্থীর পক্ষে তা আটকানো কি আদৌ সম্ভব?
এদিকে রঞ্জন শীল শর্মার ‘মা’ ডাকের উত্তরে বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা, কিন্তু লড়াই হবে রাজনৈতিক। ভোটবাক্সেই সব জবাব মিলবে।” অর্থাৎ, রাজনীতির আঙিনায় তিনি যে এক চুল জমিও ছাড়বেন না, তা স্পষ্ট।এখন দেখার, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির মানুষ উন্নয়নের গেরুয়া ঝান্ডা ধরে রাখে, নাকি তৃণমূলের এই আবেগপূর্ণ প্রচারের ফাঁদে পা দেয়। আপাতত পাল্লা কিন্তু পদ্ম শিবিরের দিকেই ভারী।