প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দামামা বাজতেই উত্তর কলকাতার গলি-ঘুঁজিতে এখন এক অন্যরকম শিহরণ। গত ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে ৯২ হাজার ভোটের এক ‘রহস্যময়’ ব্যবধানে থমকে যেতে হয়েছিল পোড়খাওয়া রাজনীতিক তাপস রায়কে। কিন্তু রাজনীতির মহাকাব্যে পরাজয় অনেক সময় হয়ে ওঠে আগামীর জয়ের সোপান। গতকাল মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই, সেই পুরনো ক্ষত এবার তৃণমূলের কাল হতে চলেছে। তাপস রায়ের তূণ থেকে বের হওয়া প্রতিটি বাণ এখন বিঁধছে শাসকদলের অন্দরমহলে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ভুয়ো ও অবৈধ নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে— যা ছিল তৃণমূলের ‘অদৃশ্য সৈন্যবাহিনী’। বিজেপি শিবিরের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই ৪ লক্ষ ভুয়ো ভোটারই ছিল তৃণমূলের জয়ের প্রধান অক্সিজেন। আজ যখন সত্যের আলোয় সেই ‘ছায়া’রা মিলিয়ে গিয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে শাসকের কম্পন।

তাপস রায়ের কাব্যিক খোঁচা— “যাদের নিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন ছিল, সেই ভুতুড়ে ভোটাররাই আজ বিসর্জিত। এখন কার কাঁধে ভর দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবেন মুখ্যমন্ত্রী?” বলা বাহুল্য, গত ৪ জুন লোকসভার ফল বেরোনোর পর ৯ জুন নিজের বাড়িতে বৈঠক ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি আক্ষেপ করেছিলেন— “আমি না নামলে ওই আসন হাতছাড়া হয়ে যেত।” তাপস রায়ের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, এই ‘মনিটরিং’ কি তবে গণতন্ত্রের সুরক্ষা ছিল, নাকি পুলিশের ‘জঘন্য’ ভূমিকা আর দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবকে পাহারা দেওয়া? মানিকতলায় গতবার যে ‘অসভ্যতা আর অভদ্রতা’র নজির শাসকদল রেখেছিল, এবার তার জবাব দিতে বদ্ধপরিকর পদ্ম-শিবির।তৃণমূল যখন প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডেকে সামনে রেখে সহানুভূতির মিঠে আলোয় ভোট টানতে চাইছে, বিজেপি তখন দাঁড়িয়েছে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর পাহাড় হয়ে। লড়াইটা এখন আর কেবল ব্যালটের নয়, লড়াইটা হলো পশ্চিমবঙ্গের ধূলিসাৎ হওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের। ৪ লক্ষ অবৈধ ভোটারহীন এক স্বচ্ছ ময়দানে তাপস রায় এখন সেই সেনাপতি, যিনি উত্তর কলকাতার ৯২ হাজারের না-পাওয়া যন্ত্রণাকে ২০২৬-এর বিজয়ে রূপান্তর করতে মরিয়া।

সাহিত্যের ভাষায় বলতে গেলে, মানিকতলা এখন এক ‘শুদ্ধি যজ্ঞের’ পীঠস্থান। যেখানে একদিকে রয়েছে প্রশাসনের সাজানো ‘মনিটরিং’ আর অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের শপথ। ৪ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের কলঙ্ক মুছে কি এবার মানিকতলায় পদ্মফুলের পবিত্রতা ফিরবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বাংলা।