প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিলোত্তমা থেকে অরূপ—আরজিকরের করিডোর যেন আজ এক মৃত্যুপুরীর নামান্তর। যে চিকিৎসালয় মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কথা, সেখানেই যান্ত্রিক ঘাতকের কবলে পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেল আরও একটি তাজা প্রাণ। শুক্রবার ভোরে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যেন ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এ রাজ্যে সাধারণ মানুষের জীবনের দাম কতটা সস্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক চূড়ান্ত নিদর্শন। হাসপাতালের লিফটম্যান না থাকা থেকে শুরু করে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আটকে থাকা— প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ার দাবি সরকার করে, তার বাস্তব রূপ কি তবে এটাই? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের ‘উন্নয়ন’-এর বেলুনকে আরও একবার ফুটো করে দিল। কেন একটি সুপার স্পেশালিটি ব্লকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হবে না? কেন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না? এই ‘সিস্টেমিক ফেলিওর’-এর দায় কি এড়াতে পারে স্বাস্থ্য দপ্তর?

ঘটনা জানাজানি হতেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, সরকারের অগ্রাধিকার এখন কেবল উৎসব আর মেলায়, মানুষের জীবনরক্ষায় নয়। অন্যদিকে, বাম নেতৃত্বের মতে, দুর্নীতি আর নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা আজ আরও একবার বেরিয়ে পড়েছে। বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, আরজিকরের মত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে বারবার এমন অনভিপ্রেত ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখন তলানিতে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি, তার ওপর আজকের এই যান্ত্রিক অব্যবস্থা তৃণমূল সরকারকে রীতিমতো ‘ধুয়ে’ দিচ্ছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার পারদ যে নিম্নমুখী, তা স্পষ্ট ফুটে উঠছে হাসপাতাল চত্বরের ক্ষোভে। একদিকে আদালতের নতুন ডিভিশন বেঞ্চের চাপ, অন্যদিকে তিলোত্তমার মায়ের নির্বাচনী ময়দানে নামার ঘোষণা— সব মিলিয়ে নবান্নের অস্বস্তি যে চরমে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

নৈরাজ্যের এই অন্ধকারে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। তদন্তের আশ্বাস হয়ত আসবে, আসবে ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও। কিন্তু যে প্রাণের প্রদীপ নিভে গেল প্রশাসনের খামখেয়ালিপনায়, তার হিসেব দেবে কে? আর জি কর কি তবে কেবলই কান্নার ইতিহাস হয়ে থাকবে? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা, উত্তর খুঁজছে বাংলা।