প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা যত বাজছে, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কি তবে ততই বাড়ছে পরাজয়ের কম্পন? আজ দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের পবিত্র মঞ্চকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উন্নয়নের ১০ দফা ‘প্রতিশ্রুতি’ ছাপিয়ে আজ তাঁর কণ্ঠে সবথেকে বেশি প্রাধান্য পেল কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তীব্র অনাস্থা। বিশেষ করে, যে কায়দায় তিনি ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর তত্ত্ব খাড়া করেছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘সহানুভূতি আদায়ের শেষ মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের রুটিন বদলিকে মুখ্যমন্ত্রী আজ ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ভারতের সংবিধান স্পষ্ট বলছে— নির্বাচনের সময় প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। প্রশ্ন উঠছে, এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা এক জন নেত্রী কি তবে সংবিধানের সাধারণ ব্যাকরণ ভুলে গিয়েছেন? না কি নিজের পছন্দের ‘বিশেষ’ অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের গড়া প্রশাসনিক দুর্গের পতন দেখছেন? কমিশনের নিরপেক্ষ কাজকে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ বলে প্রচার করা কি আসলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানের ওপর এক চরম কুঠারাঘাত নয়?
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আজ ফের একবার কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ভয় না পাওয়ার ডাক দিয়েছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে আজ একটিই প্রশ্ন— তদন্তে এত ভয় কেন? যদি অন্দরমহল স্বচ্ছই থাকে, তবে সিবিআই-ইডি-র অভিযানে এত বিচলিত হওয়ার কারণ কী? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন ও কয়লা কেলেঙ্কারিতে যখন দলের রাঘববোয়ালরা একের পর এক শ্রীঘরে থেকেছেন, তখন ‘টাকার প্রলোভন’ নিয়ে বিজেপির দিকে আঙুল তোলা কি আসলে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ নয়? বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির পাহাড় আড়াল করতেই কি তবে এই ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর জুজু?
সীমান্ত দিয়ে ‘মাফিয়া ও বন্দুক’ ঢোকানোর যে ভয়াবহ অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী আজ তুলেছেন, তার স্বপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ কি তিনি দাখিল করেছেন? না কি নিজের ব্যর্থ প্রশাসনকে আড়াল করতে এক কাল্পনিক শত্রুর অবতারণা করছেন? ‘আঘাত করলে প্রত্যাঘাত’-এর মত চরমপন্থী ভাষা কি এক জন প্রশাসনিক প্রধানের মুখে মানায়? শান্তি ও সম্প্রীতির আড়ালে এই ধরণের উস্কানি কি আসলে বাংলার শান্ত পরিবেশকে অস্থির করার কোনো গূঢ় পরিকল্পনা?
ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর চোখে-মুখে আজ ছিলো এক অজানা রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ভয় না পাওয়ার ডাক আসলে কি তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভিত্তির আলগা হয়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি— বাংলা আজ জেগেছে, মানুষ আজ আর কোনো ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বে’ ভুলবে না। দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে মানুষ যখন উন্মুখ, তখন ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর জুজু দেখিয়ে কি শেষ রক্ষা হবে? ব্যালট বক্সই কি তবে এই ‘রাজনৈতিক অপকৌশলের’ চূড়ান্ত জবাব দেবে? উত্তর দেবে সময়।