প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
উৎসবের পবিত্রতা ছাপিয়ে কি এবার শুধুই রাজনীতির বিষবাষ্প? শনিবার রেড রোডের ঈদের মঞ্চকে কার্যত রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করছেন, তাঁকে সরাসরি ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাগিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু কেন এই হঠাৎ আক্রমণ? মোদীজি যখন সৌদি আরব বা দুবাইয়ের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন, তখন কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়—সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলার আকাশে-বাতাসে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিশ্বমঞ্চে নরেন্দ্র মোদীর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা কি তবে ঘুম কেড়েছে কালীঘাটের? এদিন মমতা প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আরব দুনিয়ায় গিয়ে হাত মেলান বা কোলাকুলি করেন, তখন কেন তাঁর হিন্দু-মুসলমানের কথা মনে পড়ে না? পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বজুড়ে তাঁর সম্মান প্রাপ্তি মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেই ‘জ্বালা’ থেকেই কি উৎসবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, পায়ের তলায় মাটি সরছে বুঝেই কি এবার চরম মেরুকরণের পথে হাঁটছেন দিদি? সিএএ বা এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষকে অহেতুক ভয় দেখিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তিনি আসলে কোন পক্ষকে তুষ্ট করতে চাইছেন, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। প্রশ্ন উঠছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আর বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক—এই দুইয়ের তফাত কি মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই বোঝেন না, নাকি না বোঝার নাটক করছেন?

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, “অধিকার মোদীজিকে কেড়ে নিতে দেব না।” কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় আইন (CAA) যখন দেশজুড়ে বলবৎ হচ্ছে, তখন একটি ধর্মীয় মঞ্চ থেকে এমন উস্কানিমূলক ভাষণ কি আদৌ আইনসম্মত? বিভাজনের রাজনীতি উস্কে দিয়ে তিনি কি আসলে বাংলার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে চাইছেন? ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকে টেনে এনে তিনি যে ‘বিদ্বেষ’ ছড়ানোর চেষ্টা করলেন, তার যোগ্য জবাব কি বাংলার মানুষ ব্যালট বাক্সে দেবে? আপাতত, মোদীর ‘আলিঙ্গন’ বনাম মমতার ‘আক্রমণ’—এই দ্বন্দ্বে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। উৎসবের মেজাজেও কেন মোদী-আতঙ্ক তাড়া করছে ঘাসফুল শিবিরকে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।