প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ সকালে রেড রোডের ইদ নামাজের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে এবার রাজ্য রাজনীতিতে প্রলয়ঙ্কারী ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কালীঘাটে পুজো দিয়ে ভবানীপুরে নিজের কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন—অ-মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কেন নামাজের পবিত্র আঙিনায় প্রবেশ করবেন? এটি কি ইসলামের ধর্মীয় রীতিনীতিতে আঘাত নয়?শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা বাংলা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী আজ অত্যন্ত কৌশলে মমতার ‘তুষ্টির রাজনীতি’র মূলে আঘাত করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, ইদের শুভেচ্ছা জানানো এক বিষয়, আর নামাজের পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “নামাজ পড়বে তারাই, যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে কী করতে গেছেন? কমিটিই বা তাঁকে কেন অনুমতি দেয়?” শুভেন্দুর এই বয়ান একদিকে যেমন হিন্দু ভোটকে সংহত করছে, তেমনি মুসলিম সমাজের এক বড় অংশের মনেও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
এদিন ভবানীপুরে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারীর পাশে উপস্থিত এক মুসলিম ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে তিনি প্রশ্ন করেন, “অন্য ধর্মের লোক নামাজে প্রবেশ করা কি ঠিক?” সেই ব্যক্তি যখন প্রকাশ্যে সম্মতি জানান যে, এটি ঠিক নয়, তখন শুভেন্দু আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তাঁর দাবি, খোদ সংখ্যালঘু সমাজের মানুষই মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ভালো চোখে দেখছেন না। শুভেন্দুর এই কৌশল তৃণমূলের তথাকথিত ‘নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্কে’ বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, মমতার এই আচরণ আসলে দ্বিচারিতা। তাঁর অভিযোগ, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের পুজো উদ্বোধন করেন, আবার অন্যদিকে মাথায় হিজাব পরে নামাজে যান—যা একইসাথে হিন্দু বিরোধী এবং মুসলিমদের ধর্মে আঘাত করার সামিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুভেন্দুর এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ আসলে তৃণমূলের ‘ইমেজ’ নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল।
আজ সকালের এই ঘটনার পর তৃণমূল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত বিজেপিকে পালটা জবাব দিতে তৃণমূল দেরি করে না, কিন্তু শুভেন্দু যেভাবে একজন সাধারণ নাগরিককে পাশে নিয়ে এই প্রশ্নটি তুলেছেন, তার কোনো সরাসরি উত্তর এখনও ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। বিরোধীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল এবার সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছে। আজকের এই বিতর্ক কি কেবল রেড রোডের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আসন্ন নির্বাচনে এটি তৃণমূলের পতন ত্বরান্বিত করবে? শুভেন্দুর তোলা এই প্রশ্নের উত্তর এখন গ্রাম-বাংলার বুথে বুথে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।