প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পরাজয়ের আগাম সাফাই গাইতে শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার (২২ মার্চ, ২০২৬) কলকাতার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এক দলীয় কর্মিসভায় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ইভিএম এবং ‘লোডশেডিং’ নিয়ে সরব হয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা— পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে বুঝেই এখন থেকে পরাজয়ের অজুহাত তৈরি করছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে গত কয়েক দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মাত্র ৩ দিনে প্রায় ৫০ জন উচ্চপদস্থ অফিসারকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আক্ষেপের সুরে বলেন, “৩ দিনে ৫০ জন অফিসারকে সরিয়েছে। আমাদের হাতে এখন কিছু নেই”।
বিজেপি শিবিরের পাল্টা দাবি, এতদিন যে সব ‘ঘনিষ্ঠ’ অফিসারদের ব্যবহার করে ভোট লুট ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চলত, নিরপেক্ষ কমিশন তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় দিদিমণি এখন দিশেহারা। নিরপেক্ষ আধিকারিকরা দায়িত্ব নেওয়ায় তৃণমূলের ভোট মেশিনারিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২১-এর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে হারের স্মৃতি উস্কে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের ‘লোডশেডিং’ এবং গণনায় কারচুপির এক কাল্পনিক তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করেন। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর নির্দেশ— “লোডশেডিং করে দিতে পারে, স্ট্রংরুমে বিশেষ নজর রাখতে হবে”। ভোট শেষ হলেও কর্মীদের বাড়ি না গিয়ে ইভিএম পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের তোপ, “যাঁরা নিজেরা ছাপ্পা মারতে ও ব্যালট বাক্স লুটে সিদ্ধহস্ত, তাঁরাই এখন চোরের মায়ের বড় গলার মতো ইভিএম পাহারা দেওয়ার নাটক করছেন। সাধারণ মানুষ যখন তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন, তখন স্ট্রংরুম পাহারা দিয়ে বা অন্ধকারে ভূতের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘হতাশাজনক’ ভাষণই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। প্রশাসনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে বুথ দখল অসম্ভব বুঝে এখন থেকেই পরাজয়ের দায় কমিশন ও ইভিএম-এর ওপর চাপানোর জমি তৈরি করছেন তিনি। বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়, আর তৃণমূল নেত্রীর এই ‘ভয়’ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।